Advertisement
  • ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
  • জুলাই ৯, ২০২৩

গুচ্ছ কবিতা

সৈয়দ কওসর জামাল
গুচ্ছ কবিতা

চিত্র: ফ্রিডা কাহলো, শিরনাম: শিকড়,১৯৪৩

কেন ?

 
গুচ্ছ কবিতার আয়োজন আর পরিবেশনে একটু রদবদল করতে হল এবার।পাশাপাশি দুই কবির ৩+ ৪=কবিতা। কবিদের একজন, প্রাজ্ঞ, বহু পঠিত, কবিতা বিশ্বের  বহু ভাষিক কবিকন্ঠের সঙ্গে সুপরিচিত  সৈয়দ কওসর জামাল। বাংলা কবিতায়, ভারী স্বরের রোম্যান্টিক প্রতিনিধি। এখনো  কওসর জামাল-এর  সেরা এবং নির্বাচিত কবিতা সংকলন বের হয়নি কেন ? এ এক স্বাভাবিক প্রশ্ন। জবাব দেবেন কে ?
 
সন্তোষ ভট্টাচার্য-র কবিতার সঙ্গে আমাদের পরিচয় নেই। পীড়িত বোধ করছি। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সন্তোষ ভট্টাচার্য ক্যালিফোর্নিয়ার প্রবাসী বঙ্গভাষী। মনে হয়, প্রেম-চেতনার মতো কবিতা তাঁর সবসময়ের সঙ্গী। আমরা সন্তোষের আরো অনেক কবিতা পড়তে ইচ্ছুক। নির্মোহ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইলাম।
 
বাহার উদ্দিন
৯.০৪.২০২৩

 
 

জন্মঋণ

 
যে কোনো পথেই দেখি অনন্ত অরূপ ফুটে ওঠে
পানপাত্রে মুখচ্ছবি দেখে আঁতকে ওঠে সরাইখানার ছায়া
অসমাপ্ত ব্রিজের নীচে, চোরাগোপ্তা সংঘর্ষের পিছনে,
যুযুধান দু’পক্ষের মাঝে, তুষারঝড়ের পথে, আরও কত
        অসংখ্য অকুস্থলের কাছে আমাদের ঋণ
                          শোধ করে যাব
এক হাজার কোটি স্নায়ুকোষ দিয়ে গড়া এই মানব-মস্তিষ্ক
কার কাজে লাগবে আমার মৃত্যুর পর?
বলো ধ্বংস, টানো পূর্ণচ্ছেদ
শুধু এ অপ্রতিরোধ্য পরিক্রমা দিগন্তের কাছে গিয়ে থামে
অদ্ভুত মুগ্ধতা, ভালো লাগা থেকে গড়ে ওঠা অতিথিনিবাস
এই সৌন্দর্যচেতনা শুধু মানুষের
এসো, তাকে তুলে রাখি শিল্পীর চেতনে, ক্যানভাসে
তাকে স্থান দাও কবিতার অতীন্দ্রিয় নিউরনে
আমি তার নেশাভার, আমি তার নিঃশব্দ যন্ত্রণা
প্রকৃতির চুরিকরা উপচার সাজিয়ে রেখেছি নদীস্রোতে,
পাহাড়তলির বুকে, মোহনায়, পাখিদের উড়েযাওয়া পথে
ভুর্জপত্রে লিখি আরক্ত সন্ধ্যার গাথা
বাতাসে বাতাসে শিহরকথার প্রাণ
নক্ষত্রের আলোপথ ধার করে লিখেছি প্রণয়
প্রণয় শ্রাবণগান, ঝরে পড়ছে বৃষ্টির মতন
কতোদিন থেকে পেতে রেখেছি হৃদয়, দেহ, মুগ্ধতাবোধ
এই জন্ম মুছে দেবে সব ?
 

শিরনাম: ব্রোকেন কলাম, ১৯৪৪

কবিতার কাছে

 
স্তব্ধতা প্রকৃতিজাত। প্রকৃতি আবার তাকে চূরমার করে।
এই ঝরনা, নদী, ঝড়, সমুদ্র উচ্ছ্বাস, বজ্রপাত কখন যে
তোমার মুখের ছায়া হল জানতে জানতে দিন শেষ…
উষার আলোয় খুঁজি জন্মের উপমা। সলজ্জ জন্মের কাছে
এত ঋণ আগে তা বুঝিনি। হঠাৎ ঘুমের মধ্যে স্পর্শ পেয়ে
রুক্ষ পথ বদলে দেওয়া কঠিন ছিল না। ভালোবাসা এভাবেই
কখন পদ্যের মতো এসে সাজিয়ে রেখেছে ঝড়ের সংসার।
আমার মুখের পাশে কাটা দাগ, কপালে সহস্র ভাঁজ দেখে
চিনে নিতে পারো একদা প্রেমিক এক বসেছিল বুকের ভিতরে।
রুদ্ধদল তাকে ভুল ছন্দ আর কাঁটাতারে বেঁধেছে আক্রোশে
তবু ঋণ, তবু এই যুক্তিহীন মায়ার প্রভাবে ইচ্ছেমতো
তোমাকে বসাই—কখনও উপমা, আর কত মেটাফর ঘেঁটে
নগ্ন করি ভালোবাসা, মুক্তি খুঁজি কবিতায় বহুদূর হেঁটে।
 

শিরনাম: অরণ্যে দুই রমণী, ১৯৩৯

শবাধার

 
তোমাকে ডেকেছি বলে পুণ্য কিছু করিনি অর্জন
বুঝে নাও এই দেহ, যাকিছু বলার, বলো, উত্তেজিত করো
প্রহারে প্রহারে জর্জরিত করো, ক্লান্তি যতক্ষণ
না আসে ইচ্ছায়, জেনে নাও অস্বস্তির মতো তার পূর্বাপরও।
 
কতটা স্মৃতির আর কতটা কষ্টের মুছে ফেলা বর্তমান
তোমার হিসেব ঠিক বলে দেবে, যদি মনে না পড়ে একবারও
ভেবো না সাজিয়ে রাখব কোনো অসংগত অভিমান
আমার যাকিছু প্রেম আগুনে গচ্ছিত, খুঁজে দ্যাখো যদি পারো;
 
অ-দগ্ধ উদ্ধার করো জায়মান চাতুর্যের ইনফার্নো থেকে
আমাকে নিঃশব্দে যদি তুলে দাও দুধের বাটিটি, যার বিষে
ঠোঁট বেয়ে মৃত্যুনীল, কলঙ্ক-আশ্রয় আমি নাচব ডিস্কো থেকে
তোমাকে ভরিয়ে দেব আর্তনাদ, বিপ্রলাপ, অমঙ্গল শিসে।
 
যখনি জেগেছে দেহ, স্নায়ুপথজুড়ে নেমেছে সন্দেহভার
তুমি কি সে কৃষ্ণজাদু, চোখের ভিতরে যার শান্ত শবাধার ?
 

♦—♦♦—♦♦—♦♦—♦

 

চিত্র: ফ্রিডা কাহলো । সৌজন্য: ফ্রিডা কাহলো ওর্গ

পড়ুন: সন্তোষ ভট্টাচার্যের গুচ্ছ কবিতা


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!