- দে । শ ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- আগস্ট ১২, ২০২৩
মুক্তির পরও থামছে না ওএমজি-২ নিয়ে বিতর্ক। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে হিন্দুত্ববাদীদের রোষে অক্ষয়
ছবির টিজার সামনে আসার পর থেকেই ছিল বিতর্ক। সেন্সর কোপে পড়ে একাধিক দৃশ্য কাটছাঁটের পর এ শংসাপত্র সহ মুক্তির ছাড়পত্র মেলে। অবশ্য তার পরেও রেহাই নেই। প্রবল বিক্ষোভের মুখে ও মাই গড ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় ছবি ‘ওএমজি-২’। শিবের চরিত্রকে পর্দায় তুলে ধরে এখন কট্টরপন্থীদের রোষানলে ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেতা অক্ষয় কুমার। পর পর পাচটি ছবি চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর ওএমজি-র দ্বিতীয় ভাগ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন বলিউডের খিলাড়ি। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে ক্রমশই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে রাজীব হরি ওম ভাটিয়ার সাফল্য লাভের আকাঙ্খা।
শুক্রবার সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে, অক্ষয় কুমার , পঙ্কজ ত্রিপাঠী ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত ওএমজি-২। প্রথম দিনে বক্স অফিসে ১০কোটি টাকার ব্যবসা করলেও, যে বিতর্ক সিনেমাটিকে নিয়ে শুরু হয়েছে , তা টাকার অঙ্ককেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ছবিতে কিছুটা কৌতূকের মোড়কে যুব সমাজে যৌন সচেতনতা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে নিজের ভক্তরূপী পঙ্কজকে সঠিক রাস্তা দেখাচ্ছেন মহাদেবরূপী অক্ষয়। যা দেখে চটেছে হিন্দুত্ববাদীরা। জায়গায় জায়গায় অক্ষয়ের কুশ পুতলিকা দাহ করা শুরু করেছে জনৈক একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সমর্থক ও কর্মীরা। শুধু তাই নয়, বলিউড অভিনেতার গায়ে যে থুথু ছেটাতে পারবে বা থাপ্পড় মারতে পারবে তার জন্য ১০ ল ক্ষটাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে তাঁরা। দলের নেতৃস্থানীয় এক ব্যক্তির সবথেকে আপত্তি ছবিতে শিবরূপী অক্ষয়ের কেশ শৈলী, পোষাক পায়ে বুট পরা ও কচুরি কেনা নিয়ে। তাঁর মতে, দেবাধিদেবের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছেন অক্ষয়। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন তিনি। তাঁরা সেন্সর বোর্ডের কাছে অবিলম্বে ছবি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
ও মাই গড সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে বিতর্ক ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকেই তুলে ধরছে। ২০১২ সালে যখন প্রথম পরেশ রাওয়াল, মিঠুন চক্রবর্তী ও অক্ষয় কুমার অভিনীত ছবিটি প্রেক্ষগৃহে প্রদর্শনের জন্য মুক্তি পেয়েছিল। নারায়ণের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। সে সময়ও তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। কিন্তু, সেজন্য সেনসর বোর্ড তার ওপর কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ জারি করেনি। রমরমিয়ে চলেছিল ও মাই গড। উল্লেখ্য, সে সময় ক্ষমতায় ইউপিএ-২। সেন্সর বোর্ডের চেয়ারপার্সন শর্মিলা ঠাকুর। রাবীন্দ্রিক ঐতিহ্যে পরিমণ্ডলে বড়ো হয়ে ওঠা ও সত্যজিতের চলচ্চিত্র শিক্ষায় পরিপুষ্ট হওয়া সকলের পরিচিত রিঙ্কু যে মুক্তচিন্তার শরিক হবেন সেটাই ছিল প্রত্যাশিত। বর্তমান দেশের পরিস্থিতি আলাদা। ক্ষমতায় সংখ্যাগুরুর সমর্থনপুষ্ট বিজেপি। তাই একাধিক দৃশ্যে সেন্সরের কাঁচি পরলেও যে অক্ষয় অভিনীত ছবি ক্ষোভের হাত থেকে রেহাই পেল না তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
❤ Support Us





