Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

প্রথমবার ওএমআর শিটে পরীক্ষা, কড়া নজরদারিতে নির্বিঘ্নে শুরু উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রথমবার ওএমআর শিটে পরীক্ষা, কড়া নজরদারিতে নির্বিঘ্নে শুরু উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার

সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা। এদিন ছিল প্রথম ভাষার পরীক্ষা। রাজ্যের অধিকাংশ পড়ুয়ার ক্ষেত্রেই বিষয়টি বাংলা। এ বারের সেমিস্টারের অন্যতম বড়ো পরিবর্তন ওএমআর উত্তরপত্র। উচ্চমাধ্যমিকের ইতিহাসে এ প্রথম এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত খাতায় লিখে উত্তর দেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট ওএমআর শিটে সঠিক উত্তরের ঘর চিহ্নিত করতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে প্রশ্নপত্র নিয়ে মোটের উপর সন্তোষই প্রকাশ করেছে পড়ুয়ারা। তাদের অনেকেরই দাবি, প্রশ্নপত্র খুব কঠিন হয়নি। প্রথম দিনের পরীক্ষা সহজ হওয়ায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলির আগে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বলে জানাচ্ছে পরীক্ষার্থীদের একাংশ।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে খবর, প্রথম দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে। কোথাও বড়ো ধরনের গোলমালের খবর মেলেনি। তবে, নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি ঘিরে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু থেকেই কিছুটা উদ্বেগ ছিল। কারণ, এ বারই প্রথম উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে ওএমআর উত্তরপত্রে। ফলে প্রশ্নপত্রের পাশাপাশি উত্তরপত্র কী ভাবে ভরাট করতে হবে, তা নিয়েও পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছিল। চলতি বছরে তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসছেন মোট ৭,১৮,৬২০ জন পড়ুয়া। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৩,১৫,৭৩১ জন। ছাত্রী ৪,০২,৮৮৯ জন। রাজ্যের ৬,৮৭৭টি স্কুলের পড়ুয়ারা এ বারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষা হচ্ছে ২১০৫টি ভেন্যু এবং ৮২৫টি মূল কেন্দ্রে।

প্রথম দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ছিল পরীক্ষার্থীদের ভিড়। পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই বহু পড়ুয়া কেন্দ্রে পৌঁছে যায়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কেউ বই খুলে বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়েছে, কেউ আবার পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রথম দিনের প্রশ্নপত্র সহজ হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই মুখে হাসি ছিল অনেকের। এবার, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও থাকছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ ওএমআর স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে উত্তরপত্র যাচাই করা হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষক হাতে ধরে প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন না। এই ব্যবস্থায় উত্তরপত্রে সামান্য ভুল চিহ্ন দেওয়াও সমস্যার কারণ হতে পারে বলে পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে সংসদ। কালো অথবা নীল কালির কলম দিয়ে নির্দিষ্ট ঘরটি সম্পূর্ণ ভাবে ভরাট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্ধেক ঘর ভরাট করা, টিক চিহ্ন দেওয়া কিংবা একই জায়গায় বার বার কালি লাগানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পেনসিল বা জেল পেন ব্যবহার না করাই শ্রেয়। ওএমআর শিট ভাঁজ করলেও স্ক্যানিংয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্নপত্র বিলি করার ক্ষেত্রেও এ বার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নপত্রে রয়েছে পৃথক ইউনিক সিরিয়াল নম্বর। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে পরীক্ষার্থীদের সামনেই সিল করা প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হয়। প্যাকেটের সিল অক্ষত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে দুজন পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ব্যবহৃত ওএমআর শিট নিরাপদে সংসদের আঞ্চলিক কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতীয় ডাকবিভাগের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন পরীক্ষা শেষ হলে কেন্দ্রসচিবরা ওএমআর শিটগুলি নির্দিষ্ট নিয়মে সিল করে সংশ্লিষ্ট ব্লকের নির্ধারিত ডাকঘরে জমা দেবেন। সেখান থেকে সেগুলি পাঠানো হবে সংসদের আঞ্চলিক কার্যালয়ে।

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে এ বারও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে সংসদ। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিও রয়েছে। মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ক্যালকুলেটর-সহ যে কোনো ধরনের বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকা নিষিদ্ধ। পরীক্ষা চলাকালীন কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট এবং বাকি পরীক্ষাও বাতিল হতে পারে। পরীক্ষাকক্ষে নজরদারির ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট অনুপাত। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য দুজন করে পরিদর্শক থাকছেন। রাজ্যের মোট ৯৯টি কেন্দ্রকে সংবেদনশীলহিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বারের উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা সূচিতেও একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। সে কারণে ওই সময়ের পরীক্ষাগুলির দিন বদল করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর যে পরীক্ষাগুলি হওয়ার কথা ছিল, সেগুলি হবে ১২ অক্টোবর। ৬ অক্টোবরের পরীক্ষাগুলি পিছিয়ে ১৩ অক্টোবর করা হয়েছে। একই ভাবে ৭ অক্টোবরের নির্ধারিত পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৪ অক্টোবর। এর পাশাপাশি করম পুজোর ছুটির কারণেও সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ভোকেশনাল বিষয়ের পরীক্ষা পুনর্নির্ধারিত হয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীদের সংশোধিত সূচি দেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  

মূল সূচি অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষা। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ইংরেজি। ২৫ সেপ্টেম্বর রয়েছে ইকোনমিক্স, অ্যানথ্রোপলজি, সায়েন্স অব ওয়েল বিইং এবং অ্যাপ্লায়েড এআই। ২৮ সেপ্টেম্বর ফিজিক্স, নিউট্রিশন, এডুকেশন এবং অ্যাকাউন্টেন্সি পরীক্ষা।২৯ সেপ্টেম্বর হবে কম্পিউটার সায়েন্স, মডার্ন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড ফিজিক্যাল এডুকেশন, মিউজিক এবং ভিজ্যুয়াল আর্টসের পরীক্ষা। ৩০ সেপ্টেম্বর রয়েছে স্ট্যাটিস্টিকস, সাইকোলজি, কমার্শিয়াল ল অ্যান্ড প্রিলিমিনারিজ অব অডিটিং এবং হিস্ট্রি।  ১ অক্টোবর কেমিস্ট্রি, জিয়োগ্রাফি, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং বিজনেস স্টাডিজ। ৩ অক্টোবর ফিলোসফি পরীক্ষা। এরপর পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী বাকি পরীক্ষাগুলি হবে ১২, ১৩ এবং ১৪ অক্টোবর।

২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে বলা হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রে পৌঁছে কোনো রকম সমস্যায় পড়া এড়াতে আগেভাগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় সেমিস্টারে চিলড্রেন উইথ স্পেশ্যাল নিডসপরীক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তাঁরা অতিরিক্ত সময়, লেখক অথবা দোভাষীর সাহায্য নিতে পারবেন।

দুর্ঘটনা কিংবা চিকিৎসাজনিত কারণে সাময়িক ভাবে লেখার ক্ষমতা হারিয়েছেন, এমন পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য।তবে এই সুবিধা পেতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনোরকম সমস্যা বা বিভ্রান্তি তৈরি হলে পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের সহায়তার জন্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে হেল্পলাইন ও কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। পরীক্ষা যত এগোবে, নতুন ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়েই এখন নজর থাকবে শিক্ষা মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!