- ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
- নভেম্বর ১২, ২০২৩
অক্সিজেন মৃতদের জন্য নয়
পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত ভূখন্ডের আবহমান ইতিহাস আর সামাজিক চালচিত্রকে যেরকম জ্ঞাপন করে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলি সাহিত্যের সত্য, যেখানে তত্ত্বের চেয়ে অনেক অনেক বেশি সৃষ্টিশীল সেমিটিক চিত্ত, ঠিক সেভাবেই তার বৈদগ্ধ, তার যাপনের বিশ্বাসকে ছুঁয়ে আছে সাম্প্রতিকের স্মৃতি, পূর্বস্মৃতি
চিত্র-আবেদ আবদি॥ ১৯৬৭
পশ্চিম এশিয়ার বিস্তূত ভূখন্ডের আবহমান ইতিহাস আর সামাজিক চালচিত্রকে যেরকম জ্ঞাপন করে ফিলিস্তিন ও ইসরায়লি সাহিত্যের সত্য, যেখানে তত্ত্বের চেয়ে অনেক অনেক বেশি সৃষ্টিশীল সেমিটিক চিত্ত, ঠিক সেভাবেই তার বৈদগ্ধ, তার যাপনের বিশ্বাসকে ছুঁয়ে আছে সাম্প্রতিকের স্মৃতি, পূর্বস্মৃতি । ১৯৪৮ এ ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা, ৬৭-র আরব ইসরাইলের যুদ্ধ, ৭৩ এ ফিলিস্তিনকে ঘিরে প্রাতীচ্য ঘেঁষা তেল আবিভের আগ্রাসনের উন্মত্ততাকে আমল দেয়নি ইসরাইলের বিবেক, বিবেকের স্রোত বেয়ে সে খুঁজেছে তার আদি সত্তাকে, আত্মপরিচিতির প্রগাঢ় বিস্তৃতিতে, আশ্রয় নিয়েছে অধিবিদ্যায় (মেটাফিজিক্স)। সে তুলনায় ফিলিস্তিনি কবিতা, আরবি কবিতার বাস্তবতাময় (কবি সমাজের দর্পন, আ-শেরউ মারআতুল কত্তম) বাধ্যবাধকতার চিত্র আঁকতে গিয়ে আগ্নেয় প্রতিবাদ আর দ্রোহের কখনো কখনো আর্তনাদ ও হতাশার প্রশ্নহীন অবলম্বী হয়ে উঠেছে । উনিশ শতকের প্রথমার্ধ থেকে পশ্চিমি আধুনিকতার কাছে ঋণী হয়ে উঠেছিলেন বিভিন্ন আরব মুলুকের কবিতা (শওকি বেগ, মিকাইল নাইমার অনেকের প্রভাবে), প্রথম মহাযুদ্ধের পর তার অভিমুখ বদলে যায় টি এস ইলিয়ট, এজরা পাউন্ডের আত্মভাষণের, আত্মবীক্ষণের পরোক্ষ চাপে । বিরল আর উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ছিলেন খলিল জিবরান । আরব জাতিসত্তার চিরায়ত সাধনায় নিয়োজিত তাঁর উচ্চারণে যে অভিমুখ নির্মিত হল, তা সর্বগ্রাহ্য হল না, আবার পুরোপুরি বর্জিতও নয়, মার্কসবাদ এর শরিকিয়ানা প্রথমসারির কবিদের উৎসাহী করে তুলল, অনুকরণ প্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ল আরব ঈশ্বরদের সমসাময়িক শরীর চর্চায়, ঠিক তেমনি তাদের মনো বিশ্লেষণেও এখানে অধিকতর আলোড়িত হতে থাকে ফিলিস্তিনের কবিতা। ঝলকে ঝলকে রক্তের উজ্জীবণ করে গেলেন কবিরা, মাহমুদ দারবিশ এরই সেরা দৃষ্টান্ত । মার্কসবাদে দিক্ষীত, ইয়াসের আরাফতের নিকটতম সহযোগী দারবিশ দুনিয়া জুড়ে বহু অনূদিত আলোচিত কবি, তাঁর অনুসারীরা সেরকম নন । ইসরায়েলের কবিতাও অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়েও দৃষ্টির আড়ালে পড়ে রইল পড়ে রইল।
হামাস ও ইসরাইলি সেনার অনর্গল সঙ্ঘর্ষে ফিলিস্তিনে, ইসরাইল যে দুরূহ কলঙ্কিত আবহ তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি কোথায় পশ্চিম এশিয় কবিদের ? তাঁদের উচ্চারণে, সামাজিক চিত্ররূপ কতটা সংহত, কতটা বিবেকদর্শী তা তলিয়ে দেখা দরকার ।
১৯৭৩ সালে, ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন ফিলিস্তিনি কবি কামাল নাসের; বিবেকের ওপর আবার জাতি বিদ্বেষী রাষ্ট্রের সশস্ত্র আঘাত । গত ২০ অক্টোবর গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলি বোমায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় কবি, লেখক হেবা কামাল আবু নাদা ( ১৯৯১-২০২৩) । তাঁর মূত্যুতে সন্ত্রস্ত, স্তম্ভিত আমরা । উদ্বিগ্ন আমরা । হেবার মূত্যু আমাদের অপরাধী করে তুলছে । হেবা কামালের শারজাহ পুরস্কার জয়ী উপন্যাসের প্রতীকি কান্না থেকে থেকে গুমরে উঠছে, অক্সিজেন মৃতদের জন্য নয় ।
বাহার উদ্দিন
ফিলিস্তিনের কবিতা অথবা যৌথ যন্ত্রণার আলোকচিত্র
কামাল নাসের
(১৯২৪-১৯৭৩)
ভাষান্তর : রবিউল কমল
ফিলিস্তিনিদের গল্প
আমি তোমাদের একটি গল্প শোনাব
আমাদের স্বপ্নে বেঁচে থাকার গল্প
তাঁবুর ভেতর থেকে আসা একটি গল্প
যন্ত্রণায় অনুপ্রাণিত আর অন্ধকার রাতের আতঙ্কে অলঙ্কৃত গল্প ।
এটা আমার দেশের গল্প, কয়েকজন শরণার্থীর গল্প
তাদের প্রতি কুড়িজনের জন্য বরাদ্দ মাত্র এক পাউন্ড ময়দা
একটুখানি ত্রাণের প্রতিশ্রুতি… উপহার ও পার্সেল ।
দুর্দশাগ্রস্ত লোকগুলি
দশ বছর ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল,
ক্ষুধায়,
কান্না আর বেদনায়
কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ।
এটি এমন কিছু মানুষের গল্প যারা বিভ্রান্ত ছিল
যাদের বছরের পর বছর ভুল বুঝিয়ে রাখা হয়েছিল ।
তবু তারা প্রতিবাদি হয়ে ওঠে
তারা বিচ্ছিন্ন হলেও ঐক্যবদ্ধ
যখন আলো থেকে তাঁবুর দিকে অগ্রসর হল
প্রত্যাবর্তনের সে বিপ্লব
তাদের জায়গা করে দিল তাঁবুর অন্ধকারে ।

চিত্র- আবেদ আবেদি
শেষ কবিতা
আমার মৃত্যুর খবর যদি তোমার কাছে পৌঁছায়
আমি জানি, তুমি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়বে
তবু আমার একমাত্র সন্তানকে ভালোবেসো,
সে আমার ফিরে আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে
আমার জন্য তার চোখে অশ্রু ঝরতে দিও না
জানোইতো, আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে
দিন যাপন ক্ষত-বিক্ষত, এখানে জীবন মানে মৃত্যু
আমার চোখে সে দৃশ্য ভেসে ওঠে ।
যদি আমার মৃত্যুর খবর তোমার কাছে পৌঁছায়
আর প্রিয়জনরা যদি চিৎকার করে বলে
বিশ্বস্ত মানুষটি চিরতরে হারিয়ে গেছে,
ঝড়ে গেছে ফুলের বুকের সুবাস
তুমি কেঁদো না… কারণ জীবন মানে হাসি,
আমার সন্তানকে বলো
তোমার বাবা এই মাটিতে মিশে আছে
মানুষ মাটি ছুঁয়ে আজ তাকে স্পর্শ করে
তার চিন্তা আলো জ্বালিয়ে পথ দেখিয়েছে
তিনি আমূত্যু নিপীড়িত মানুষের কষ্ট দেখে গেছেন
পথে বিদ্রোহ করেছেন, শহিদ হয়েছেন
নিজের সত্তাকে কখনো বিসর্জন দেননি,
নিজের প্রার্থনা বদল করেছেন
তার লড়াই রক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়েছে
তার সাহস কাঁপিয়ে দিয়েছে ভাগ্যকে ।
যদি আমার মৃত্যুর খবর পৌঁছায়
যদি আমার বন্ধুরা তোমার কাছে আসে
তাদের চোখে যদি ভয় মিশে থাকে
তুমি তাদের সামনে হাসবে
আমার মৃত্যু সবার জন্য জীবন বয়ে আনবে ।
নিপীড়িতদের স্বপ্ন হবে আমার কবর
যে স্বপ্নের জন্য আমার প্রার্থনা, আমার বেঁচে থাকা ।
আমার মৃত্যুতে আবার জন্ম নেবে তাদের স্বপ্ন ।
আমি সে সৃষ্টির উচ্ছ্বাসে আন্দোলিত
পরের দিন, এই পবিত্র মাটিতে
আমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়ো
ঢেকে দিয়ো আমার আত্মা ও শরীর
আমি অমর
আমি বন্ধুদের স্বপ্ন আর স্মৃতিতে বেঁচে থাকব ।
প্রিয়তমা, যদি তোমার কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছোয়
যদি তোমার ভয় করে
যদি কাঁপতে শুরু করো, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়
তাহলে তোমার মুখটি যেন চাঁদের মতো ফ্যাকাসে দেখায়
চাঁদ যাতে তোমার দিকে তাকাতে না পারে
তোমার মুখ যেন হয় সৌন্দর্যের বাগান
কারণ চাঁদের আলোকে আমি হিংসা করি ।
আমার একমাত্র সন্তানকে বলো
আমি তাকে ভালোবাসি, ভালোবাসি…
আমার আত্মবিসর্জনের চেয়েও বেশি
সে যেন আমার ত্যাগের আনন্দ অনুভব করে ।
তার জন্য কিছুই অবশিষ্ট নেই
সে যেন তবু, দীর্ঘশ্বাস না ফেলে…
যা আছে, সেগুলো যেন আঁকড়ে ধরে ।
আমার প্রিয় সন্তানকে বলো
যদি সে কখনো আমার কবর জিয়ারত করে
যেন আঁকড়ে রাখে, আমার স্মৃতিকে
তাকে বলো, আমি একদিন ফিরে আসব
স্বাধীন জন্মভূমির পতাকার কাপড় হয়ে ।
•••••••• •••••••• ••••••••

চিত্র- আবেদ আবেদি॥ শিরোনাম – জেরিসালেম॥ ১৯৬৭
নাজওয়ান দারভিশ
ভাষান্তর : সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আমি মাটিতে লিখি
আমি মাটিতে লিখতে চাই,
আমি মাটিকেই বানাতে চাই
শব্দের উৎস,
কিন্তু আমি সেই রোমানদের
বানানো স্ট্যাচু হয়ে আছি,
যা ভুলে গেছে আরবরা,
যারা উপনিবেশ বানিয়েছিল
তারা চুরি করেছে
আমার গণ্ডিত হাত,
সাজিয়ে রেখেছে মিউজিয়ামে,
তবুও আমি লিখতে চাই,
লিখতে চাই মাটি,•
যেখানে ছড়িয়ে আছে
আমার শব্দ,
আর নৈঃশব্দই
আমার জীবনের গল্প ।
•••••••• •••••••• ••••••••
রাওয়ান হুসেন
ভোর
আমার মাথার ওপরে ভেঙে পড়লো একটা ভোর,
নির্ভুল টুকারো টুকরো কারে সাজিয়ে রাখলো সব সমাপ্তি,
শিশুদের ছোট ছোট পা
আচমকা ঘুরে গেলো
আকাশের দিকে,
সময় সবকিছু সরিয়ে রাখলো পাশে,
আর সবার চোখ বন্ধ করে দিলো,
যেভাবে একটা সশব্দ শিশু
ধূসর চোখের আড়ালে লুকিয়ে যায়,
আমাদের ছাদ ভেঙে দিলো সেইসব পাথরের ঝর্না,
আর পাথরের টুকরোর আড়ালে
ঝুলে রইলো আমাদের
শেষ অনুভবের ছবি,
আমার মুখের ওপর এঁকে দিলো
শেষ তৈলচিত্র, গভীর রাত্রির মধ্যে আমরা বুদ্ধ হচ্ছি,
নির্মাণ করছি সময়
আর তাকে পরে নিচ্ছি শরীরে,
অস্ফুট আওয়াজ করছে
শিশুদের মুখে লেগে থাকা আতঙ্ক,
কারা এসে গ্রাস করবে
আমাদের মরচে পড়া
কলঙ্কিত ঠোঁট ?
•••••••• •••••••• ••••••••
ফাদওয়া তুকান
আমার জন্য যথেষ্ট
অনেক হয়েছে,
অনেক হয়েছে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া,
অনেক হয়েছে পৃথিবীর বুকে দফন,
অনেক হয়েছে শরীরের গলে যাওয়া আর
মিশে যাওয়া মাটিতে,
এবার উদাত্তভাবে ফুটে উঠবো
ফুল হয়ে,
আমারই শহরের এক শিশুর সঙ্গে
খেলবো,
বেঁচে থাকার জন্য
অনেক কিছু আছে এখনও,
আমার দেশকে আলিঙ্গন করবো,
তার কাছে আসবো আরো
মুঠোতে নেবো দেশের
ধুলো ও মাটি,
স্পর্শ করবো ঘাসের বংশধরদের
আর কিছু বিমূর্ত ফুল ।
•••••••• •••••••• ••••••••
হোসাম মারুফ
যুদ্ধের হাত
আমরা ধরেছি যুদ্ধের হাত,
হয়তো সে আমাদের সঙ্গে হাঁটছে
সে জন্য নয়,
হয়তো সে মৃত,
কিছুটা বিলম্বিত,
অথবা স্তোকবাক্যে
আমরা কিছু ভুলে যাই,
আমরা ধরেছি যুদ্ধের হাত,
এই বিশ্বাসে
যে এটাই শেষ হাতধরা,
ধেয়ে আসছে বিপর্যয়ের ঢেউ,
কারণ সব রাস্তা গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে
একটা ব্যর্থ দেওয়ালে
আর আমাদের দেশ
অনবরত খুঁজছে
যৌথযন্ত্রণার আলোকচিত্র ।
•♦♦•—•♦♦••♦♦•—•♦♦•

চিত্র- ইমাদ আবু সতা্হ॥
ইসরায়েলের কবিতাগুচ্ছ কিংবা খন্ডিত সমুদ্র
ভাষান্তর : সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ইলাই ইলিয়াহু
জেগে ওঠো অন্ধকারে
আমি জেগে উঠে বসলাম অন্ধকারে,
চিবিয়ে খেলাম আমার আত্মাকে,
নদীর দুপাড়ে যত অপূর্ণতা
আমাকে ব্যাকুল করে,
হৃদয়ের মুষ্ঠিতে যত আত্মচ্যুত শব্দ
আক্রমণ আর কৌতুক নিয়ে বসে আছে,
বাড়ির ওপরে শীতের স্বচ্ছ মেঘ
আর বাতাসে গাছের ফিসফিস,
আমি জেগে উঠে বসলাম অন্ধকারে,
ওই স্কুলের ছাত্রের মতো
যে সব উত্তর ভুলে গিয়ে
একা ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে ।
•••••••• •••••••• ••••••••
সুলামিং অ্যাকেল
মাকে ছাড়া একটা ছুটির দিন
আজ খুব ঠাণ্ডা,
আকাশও শুকনো হয়ে আছে,
মাকে ছাড়া প্রথম ছুটির দিন,
আমার শোক এখনো কমেনি
বাচ্চাদের সঙ্গে বসে আছি
একটা বাসস্টপের বেঞ্চে,
যতক্ষণ না অন্ধকার নামে
আমি এই মুহূর্তগুলোতে কোনো
আনন্দ পাই না,
এইসব রাতেই আমি দেখি
ঘরে একটা প্রজাপতির ছায়া,
আমি সামনে ঝুঁকে তাকে আমার
বাচ্চার পোশাক পরাতে যাই
দেখি সে মৃত ।
•••••••• •••••••• ••••••••
ক্যারেন অ্যালকালে গাট
একটা খণ্ডিত সমুদ্র
পাখিগুলো
এই দ্বিখণ্ডিত সমুদ্রের সঙ্গে
বেশ মানিয়ে নিয়েছে,
ওরা দলবেঁধে পাহারা দেয়,
বিকেল হলে
আকাশ একই রকম
গোলাপী হয়ে যায়,
শুধু আমরা একটা
ভৌতিক যন্ত্রণা নিয়ে বসবাস করি,
আর মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে
ঈশ্বরের বাগান,
কারোর পা খণ্ডিত, ছোট হয়ে যায়
কুষ্ঠ রোগে,
তবু তার কথা এখনো বন্ধ হয়নি,
মুখ এখনো বুজে যায়নি জলে
সে বলছে,
তার খুব দরকার, অনেক কিছু দরকার,
একটা দ্বিখণ্ডিত সমুদ্র
শুধু পরিব্যপ্ত হয় ।
•••••••• •••••••• ••••••••
নাদিয়া আদিনা রোজ
দৈর্ঘ্য
আমাদের পরিবারের গাছটার
খুব বেশি শাখা-প্রশাখা নেই,
কিছু একাকী মেয়ে
তার উপর চড়ে বসে আছে,
খুব সরু কিছু কয়েকটি প্রশাখার উপর,
কাকিমা জেঠিমারা
আপেল তুলছে
মিষ্টি বানানোর জন্য,
ময়দার তালগুলো
ফুলে ফুলে উঠছে রাতে,
তার দৈর্ঘ্যে প্রস্থে
জমা হচ্ছে একাকিত্ব,
কয়েকটি টুকরো টুকরো দিন
ছড়িয়ে পড়ছে পাখিদের ভিড়ে ।
•♦♦•—•♦♦••♦♦•—•♦♦•
সঙ্গে আছি ভালো থাকুন
এনইএফ-এর স্থপতি জাকির হোছে্ন এর আত্মকথা, আমাদের বিদ্যানিকেতন অপরিহার্য কারণে আজ প্রকাশিত হল না। ১৯ নভেম্বর থেকে আবার যথাক্রমে বের হবে। বিস্তৃত আকারে । আশা করি, সঙ্গে থাকবেন রোব-e-বর্ণের স্তিতধী পাঠক।
সম্পাদক॥ ১২.১১.২০২৩
❤ Support Us








