Advertisement
  • ক | বি | তা রোব-e-বর্ণ
  • জুন ৩০, ২০২৪

কবিতা

কবিতা

চিত্রকর্ম: সোমনাথ হোড়। কাগজে জলরং। ১৯৯২


দৃশ্য বদলের শক্তি


বাঁক ফেরাচ্ছেন গোলাম রসুল, তীক্ষ্ণ অনুভূতিশীল কবি। রূপক কিংবা বাক-প্রতিমার আড়ালে লুকিয়ে থাকে তাঁর সাংকেতিকতা এবং কবিতার ভেতরের কবিতা ও অধিবিদ্যার স্পর্শাতীত অভিজ্ঞতা। আগে, কয়েকবার ‘আরম্ভ’-য় বের হয়েছে গোলাম রসুল এর গুচ্ছ কবিতা, এবার পরিবেশিত হল অবরুদ্ধ কবির সংলাপ, যিনি প্রতিটি মৃত্যুকে নক্ষত্রে পাঠানোর পরিকল্পনা ধ্বংস করে দেন, যাঁকে তাড়া করছে এক পাগলা-আয়না। সঙ্গে থাকলো এই সময়ের আরো দুই কবি জগন্ময় মজুমদারঅশোক মুখোপাধ্যায় এর স্নিগ্ধ অঙ্গীকার আর দৃশ্য বদলের মহাশক্তি ।

 

 

গো লা ম  র সু ল

 

যেতে পারলাম না , অবরোধ চলছে

কোনো দিকে যাবার কোনো উপায় নেই
অবরোধ চলছে

এখন আমার জীবন মুলতবি রাখা হয়েছে

একটা কফিন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার মুখ

এক মহাপাপের জন্য আমাকে নির্বাসিত করা হয়েছে
প্রথমে ভাবা হয়েছিল আমাকে ঝুলে থাকা
কিংকর্তব্যবিমূঢ় চাঁদে রাখা হবে
পৃথিবীর খোটার সঙ্গে শক্ত করে চাঁদকে বেঁধে রাখা হবে
আমি আনন্দ পেয়েছিলাম চান্দ্রমাস গুলো হারিয়ে গেলে পৃথিবীতে আর কোনো ধর্ম থাকবে না
আমার সঙ্গীসাথী হয়ে উঠবে চাঁদের মানুষ
আর আমি ভুলে যাব যে আমি পৃথিবীর কয়েদি ছিলাম ।

এই সময়টুকুর মধ্যে যার কোনো তটরেখা দেখা যায় না
সময় তার খুঁটিগুলো লুকিয়ে রেখেছে শহিদদের মৃত্যুর মধ্যে
সারা রাত ধরে একটা কাকের পেটে খবরের কাগজ লেখা হচ্ছে
আমি সূচি মুখে সুতো পরাই সারা আকাশে নক্ষত্রগুলো গেঁথে ফেলার জন্য
আমি দেখব
পৃথিবীর অন্ত্রে বসে কেউ চোরাচালান করছে একটার পর একটা জীবন
তার থলিতে ভরে নিয়েছে শহিদদের মাথা গুলো ।

চিত্রকর্ম: সোমনাথ হোড়। কাগজে জলরং, ১৯৯৫

এক পাগলা আয়না

এক পাগলা আয়না আমাকে তাড়া করছে

আয়নাটা আমাকে কামড়াচ্ছে

মানুষ ভর্তি আমি পালাচ্ছি

আমি পালিয়ে যাচ্ছি
শব্দের সাথে
ঘড়ির সাথে
সূর্য যখন ইতিহাস লিখছে তার সাথে

আমি পালাচ্ছি
একখানা বইয়ের কয়েকটা পৃষ্ঠা যা নিঃশ্বাস নিচ্ছে আয়নার ফুসফুসে
তার সাথে

এটা তাই
যা ভোরবেলায় দেখা আমার দুঃস্বপ্ন

এটা একটা রাজার পোষা আয়না

এটা একটা পাগল হয়ে যাওয়া আয়না
যার মুখে ঠাসা পেরেকের হাসি
এটা ধুমকেতুর সাথে বাঁধা একুশ শতক
ছুটে বেড়াচ্ছে এমাথা ওমাথা

•—••—••—•

 

চিত্রকর্ম: সোমনাথ হোড়। কাগজে উডকাট, ১৯৬০

 

জ গ ন্ম য়  ম জু ম দা র

 

অনামিকার ছাপ

রেশন তুলতে হাতের ছাপ লাগে
— এগিয়ে দিই ।

আমার হাতের দাগের কোনো দ্বিতীয় নেই ।

যদি কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব হয়
তদন্তে লাগে ছাপ।

আমি বুড়ো আঙুলের বদলে
কেনি আঙুলের দেব,
প্রয়োজনে তর্জনীর মধ্যমার।

অনামিকার ছাপ কখনো দেবনা
একমাত্র একজন ছাড়া

সে একজনের জন্য
রাজাও ছেড়ে যায় ঘর।

 

•—••—••—•

 

চিত্রকর্ম: সোমনাথ হোড়, কাগজে জলরং

অ শো ক  মু খো পা ধ্যা য়

 

তোমার আর্শি

আজ আংশিক মেঘলা আকাশ
তোমার আর্শিতে তাকে তুমি সূর্যকরোজ্জ্বল দেখাতেই পারো ।
দৃশ্য পরিবর্তনের এই মহাশক্তি তোমার আছে ।
আমি এক নিরুত্তাপ হাওয়া
এমন আর্শির কাছে গেলে ঠাণ্ডা হয়ে যাই আরো ।

এপার থেকে ওপাড়ে যাবার একটাই রাস্তা রেখেছ,
যেতে ও ফিরতে একই রাস্তা।
রক্তাক্ত হরিণেরা এ রাস্তা দিয়েই গিয়েছিল
এবং ফিরেওছিল শান্ত নিস্তরঙ্গ হয়ে।

দৃশ্য পরিবর্তনের মহাশক্তি তোমার আছে।
তুমি বলতেই পারো সাপের জামা গায়ে জনতা তোমার।
খরগোশের জামা পরে কে আর আগুনের সামনে যায় ?
তোমার আর্শি বিখ্যাত হয়েছে রাজকোষ ভেঙে।

মিথ্যে বলছি না , আমার মনের আলো ইঙ্গিত দিয়েছে
তোমার আর্শির ভেতরটায় মিথ্যের উজ্জ্বলতা ।
একটু গঙ্গাজলে দাঁড়াও , দেখি তোমার উদাস চোখে।

•—••—••—•


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!