- এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
- মে ১৬, ২০২৫
ক্যান্সার চিকিৎসার সাশ্রয়ী পন্থার উদ্ভাবন, দুই বাঙালির গবেষণাকে সম্মানিত করলো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধির চিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে নিরলস গবেষণার স্বীকৃতি পেলেন দুই প্রতিশ্রুতিশীল বাঙালি বিজ্ঞানী– হাওড়ার আফতাব উদ্দিন মোল্লা আর কলকাতার গৌরব আচার্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির রসায়ন ও জীব–রসায়ন বিভাগ তাঁদের অসামান্য গবেষণার জন্য ২০২৫ সালের ম্যাকডোনাল্ড ডিভিশনাল অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার, যা প্রতিবছর বিভাগীয় পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ এবং গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।
হাওড়ার সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম ‘চক শ্রীকৃষ্ণ’। এখানেই জন্ম গবেষক আফতাব উদ্দিন মোল্লার। গ্রামের পাঠশালা থেকে শুরু করে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির, বেলুড়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং এরপর আইআইটি পাটনা থেকে স্নাতকোত্তর। তারপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি। বর্তমানে কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে, প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. সঞ্জয় আবে-র তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছেন তিনি। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘আরএনএ-প্রোটিন ইন্টার্যাকশন’ – অর্থাৎ মানব শরীরে আরএনএ ও প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক ও প্রভাব, যা ক্যান্সারের কোষ গঠনে ও বিকাশে মুখ্য ভূমিকা রাখে। আফতাব জানালেন, ‘গবেষণার মূল লক্ষ্যই হল এমন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা, যাতে ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ অনেকটা কমে আসে। যেন দরিদ্র মানুষও এই চিকিৎসা পেতে পারেন।’ এখানেই থেমে নেই তাঁর গবেষণা। নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ; যেমন, অ্যালঝেইমারস, পার্কিনসনস-এর অজানা কারণ নিয়েও কাজ করছেন তিনি। আফতাব বলেছেন, ‘আমার গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক-রা যেভাবে পাশে ছিলেন, সহযোগিতা করছেন, আমি কৃতজ্ঞ। এই সম্মান আসলে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’
আফতাবের পাশাপাশি কলকাতার গৌরব আচার্য ম্যাকডোনাল্ড ডিভিশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন অর্গানিক কেমিস্ট্রি বিভাগে। তাঁর গবেষণার বিষয়–অর্গানিক সিন্থেসিস এবং লিকুইড ক্রিস্টাল প্রযুক্তি। টরস্টেন হেগম্যানের তত্ত্বাবধানে তিনি গবেষণা করছেন কীভাবে লিকুইড ক্রিস্টালের বৈশিষ্ট্য আরও কার্যকর করে তোলা যায়, যা ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক্স এবং বায়ো-মেডিকেল প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির রসায়ন ও জীব–রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্রিস্টোফার ফেনক দুই ভারতীয় গবেষকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও গবেষকবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বলা হয়েছে, আফতাব ও গৌরবের কাজ আগামী দিনে বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যার সমাধানে বড়ো ভূমিকা নিতে পারে। শুধুমাত্র ল্যাবরেটরির চার দেওয়ালে আবদ্ধ নয়, তাঁদের গবেষণা ভবিষ্যতের চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাবে।
দুই বাঙালি গবেষকের এই কৃতিত্ব নতুন করে প্রমাণ করল, যোগ্যতা থাকলে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয়রা যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় আসীন হতে পারে। ভারতের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মানবসেবার সম্মিলিত দর্শন ভবিষ্যতের পথ দেখাবে। বাংলার গর্ব দুই গবেষক বর্তমানে তাঁদের গবেষণার কাজে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কনফারেন্স ও বৈজ্ঞানিক আলোচনাতেও অংশ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে তাঁদের কাজ কিভাবে বাস্তব চিকিৎসাক্ষেত্রে কার্যকর হবে, সে দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক গবেষণা মহল।
❤ Support Us





