- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২, ২০২৬
ফোনে ‘গুরুতর সতর্কবার্তা’ ? আতঙ্ক নয়, দেশজুড়ে নতুন দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার মহড়া চালাচ্ছে কেন্দ্র
হঠাৎ জোরে বেজে উঠল মোবাইল ফোন। স্ক্রিনে ভেসে উঠল, ‘অত্যন্ত গুরুতর সতর্কবার্তা’। অনেকেই প্রথমে চমকে যেতে পারেন, কেউ বা ভাবতে পারেন কোনো বড়ো বিপদের ইঙ্গিত। তবে আতঙ্কের কারণ নেই। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ‘ব্রডকাস্ট-ভিত্তিক জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা’-র দেশব্যাপী পরীক্ষামূলক মহড়ার অংশ এটি।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) এবং যোগাযোগ মন্ত্রকের অধীন টেলিযোগাযোগ দফতর (ডিওটি) যৌথ ভাবে নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করছে। এর লক্ষ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট এলাকার সমস্ত মোবাইল ফোনে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া। সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করেই লেখা থাকছে, ‘এটি একটি পরীক্ষামূলক বার্তা। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হবার কোনো প্রয়োজন নেই।’ বার্তায় আরও বলা হয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সেল ব্রডকাস্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের তাৎক্ষণিক দুর্যোগ সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও একই বার্তা প্রদর্শিত হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, এই ব্যবস্থা ‘সচেত’ নামে একটি সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত। এটি তৈরি করেছে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব টেলিমেটিক্স (সি-ডট)। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।প্রচলিত এসএমএস ব্যবস্থার সঙ্গে এই ‘সেল ব্রডকাস্ট’-এর মূল পার্থক্য প্রযুক্তিগত। সাধারণ টেক্সট বার্তা এক একটি নম্বরে আলাদা করে পাঠাতে হয়। কিন্তু সেল ব্রডকাস্টে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে থাকা সব মোবাইল ফোনে একই সঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বহু মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছনো সম্ভব হয়। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প, সুনামি, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে এ প্রযুক্তি বিশেষ ভাবে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে গ্যাস লিক, রাসায়নিক দুর্ঘটনা বা অন্য মানবসৃষ্ট বিপদের ক্ষেত্রেও দ্রুত সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। অতীতে দেখা গেছে, বিপর্যয়ের সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই ফোন লাইন ও ডেটা নেটওয়ার্ক ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সে পরিস্থিতিতে সেল ব্রডকাস্ট ব্যবস্থা তুলনামূলক ভাবে বেশি নির্ভরযোগ্য। কেন্দ্রের দাবি, টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারই অংশ এ প্রকল্প। ‘সি-ডট’-কে এই ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে দেশজুড়ে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চালিয়ে প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার মোবাইল টাওয়ার পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে একই ব্যবহারকারীর ফোনে একাধিক বার সতর্কবার্তা পৌঁছতে পারে। তাতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। এটি পরীক্ষার স্বাভাবিক অংশ। যে সব মোবাইল ফোনে সেল ব্রডকাস্টের টেস্ট অ্যালার্ট সক্রিয় রয়েছে, কেবল সেগুলিতেই এ বার্তা পৌঁছবে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ফোনের ‘সেটিংস’-এ গিয়ে ‘সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি’, তারপর ‘ওয়্যারলেস ইমার্জেন্সি অ্যালার্টস’-এ গিয়ে ‘টেস্ট অ্যালার্টস’ অপশন থেকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সরকারি মহলের বক্তব্য, এই পরীক্ষামূলক পর্ব শেষ হলে এবং এ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হলে বাস্তব দুর্যোগের সময়ে কোনো পৃথক পদক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ভাবে আক্রান্ত এলাকার নাগরিকদের কাছে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। লক্ষ্য একটাই, বিপদের সময়ে দ্রুত সতর্কতা, দ্রুত সুরক্ষা।
❤ Support Us






