- দে । শ
- মে ২, ২০২৬
ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ ত্রিপুরা। নিহত অন্তত ২, জখম বহু, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪ হাজার বাড়ি
প্রাক্-বর্ষার ঝড়ে বিপর্যস্ত ত্রিপুরা। প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখীর দাপটে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪ হাজার বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণ হিসেবে ৭৯.৫৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে ত্রিপুরা সরকার।
রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দু–দিন ধরে চলা দুর্যোগে ত্রিপুরার ৮টি জেলাতেই কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবাসিক ঘরবাড়ি, দাঁড়ানো ফসল, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের প্রকল্প অধিকর্তা এস কে দাস জানিয়েছেন, উনকোটি জেলার রাধানগরে একটি কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়ে ৫ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় শিশুটির ভাই আহত হয়েছে। অন্য দিকে, ধলাই জেলার লংতরাই ভ্যালিতে বজ্রাঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গোটা রাজ্যে প্রায় ৪,০০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি কুঁড়েঘর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য ৪টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ২৪৩টি পরিবারকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আপাতত বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির অধিকাংশই নিজেদের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার তালিকায় রয়েছে উনকোটি। সেখানে ৫১৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি সম্পূর্ণ ধ্বংস, ৩৩টি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৪৫৯টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। উত্তর ত্রিপুরায় ১৩৬টি, ধলাইয়ে ৩১৮টি, খোয়াইয়ে ১২২টি, পশ্চিম ত্রিপুরায় ২৩৫টি, সিপাহিজলায় ২৫০টি, গোমতীতে ২২টি এবং দক্ষিণ ত্রিপুরায় ৪০৭টি বাড়ির ক্ষতির খবর মিলেছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোগুলিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, অন্তত ১২৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মেরামতির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, ধলাই জেলার কমলপুর মহকুমায় সর্বাধিক ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খোয়াইয়েও ১২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, এখনো পর্যন্ত রাজ্যের কোনো নদী বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। যদিও টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
রাজধানী আগরতলাতেও দুর্যোগের প্রভাব স্পষ্ট। কয়েকটি রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। নিকাশি ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ায় বহু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। স্থানীয় বাজার ও গণপরিবহণ পরিষেবাতেও তার প্রভাব পড়ে। এরই মধ্যে জাতীয় আবহাওয়া দফতর সিপাহিজলা ও দক্ষিণ ত্রিপুরার কয়েকটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। খোয়াই এবং পশ্চিম ত্রিপুরার জন্য জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। অন্যান্য কয়েকটি জেলায় রয়েছে অরেঞ্জ অ্যালার্ট।
এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ সমন্বিত ভাবে চালানো হচ্ছে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রবিদ্যুৎ, জলমগ্ন রাস্তা, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং বড় গাছের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রাক্-বর্ষার অস্থিরতা আরও জারি থাকতে পারে।
❤ Support Us





