- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২, ২০২৬
কালবৈশাখীর দাপটে এক ধাক্কায় ৬ ডিগ্রি নেমেছে পারদ, মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলা জুড়ে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস
বৈশাখের মাঝামাঝিতে গরমের তেজে লাগাম টেনেছে কালবৈশাখী। গত দু–দিন ধরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে দফায় দফায় বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের জেরে তাপমাত্রা বেশ কয়েক ডিগ্রি নেমে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার যুগপৎ প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে। শনিবার বিকেলের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।
জানা যাচ্ছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত এই মুহূর্তে সক্রিয়। সমুদ্রতল থেকে তার অবস্থান প্রায় ১ কিলোমিটার উচ্চতায়। এর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে ওড়িশা হয়ে ছত্তিশগড় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখাও কার্যকর রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, এই দুই ব্যবস্থার জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার ফলেই রাজ্যের উপর তৈরি হয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘের অনুকূল পরিবেশ। ফলে, শনিবার দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ঝাড়গ্রামে— ৫২.৪ মিলিমিটার। দিঘায় ৫১.৯ মিলিমিটার, হুগলির মগড়ায় ৫১ মিলিমিটার, কাঁথিতে ৪৫ মিলিমিটার, ব্যারাকপুরে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। কলকাতায় ৩১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। কলাইকুণ্ডা ও কল্যাণীতেও ৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার ঝড়বৃষ্টির বিস্তার আরও বাড়বে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া-সহ কয়েকটি জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া এবং স্থানীয় ভাবে ঝড় হতে পারে। হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। আবহাওয়া দফতরের অনুমান, বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে দুর্যোগের তীব্রতা বেশি থাকবে। মঙ্গলবারও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে ৬ ও ৭ মে থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমে আসার ইঙ্গিত মিলেছে।
উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির প্রভাব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। শনিবার ও রবিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। ৫ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সোমবার ও মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ঝড়ের তীব্রতা তুলনায় কিছুটা কমতে পারে। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি ফের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস।
এদিকে, ঝড়বৃষ্টির জেরে কলকাতায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে নেমেছে। শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্বাভাবিকের তুলনায় যা প্রায় ৬ ডিগ্রি কম। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৭৩ শতাংশ। শনিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০ মিলিমিটারেরও বেশি। আকাশ সারাদিন মূলত মেঘলা থাকবে। দিনের মধ্যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় মাঝেমধ্যেই ঝোড়ো হাওয়া বইছে। তার জেরে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
❤ Support Us






