Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২, ২০২৬

মণিপুরে জারি তল্লাশি অভিযান ! উখরুলে ২৩ বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিল বাহিনী, তেংনৌপালে উদ্ধার ১৮ আইইডি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মণিপুরে জারি তল্লাশি অভিযান ! উখরুলে ২৩ বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিল বাহিনী, তেংনৌপালে উদ্ধার ১৮ আইইডি

মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলোতে এখনো অশান্তির আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। তার মধ্যেই জঙ্গি অবকাঠামো ভাঙতে আরও এক দফা অভিযান চালাল নিরাপত্তাবাহিনী। উখরুল জেলায় ২৩টি অবৈধ বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকেতেংনৌপাল জেলায় পৃথক অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৮টি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। শনিবার মণিপুর পুলিশ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবরবৃহস্পতিবার লিতান থানার অধীন পাহাড়ি গ্রাম মংকট চেপুশংফেলমুল্লামসিরারাখং এবং রিংগুয়ে-তে একযোগে অভিযান চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। দীর্ঘ দিন ধরেই ওই অঞ্চলগুলিকে জঙ্গিদের সক্রিয় ঘাঁটি বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। এদিন ওই এলাকায় গড়ে ওঠা ২৩টি অবৈধ বাঙ্কার চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের বক্তব্যপাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি অবকাঠামো ধাপে ধাপে ভেঙে ফেলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

অভিযানে একটি ১২-বোর পাম্প অ্যাকশন বন্দুক উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি মিলেছে বিভিন্ন ক্যালিবারের ১৭টি কার্তুজ এবং গুলি ছোড়া ১১১টি খালি খোসা। তদন্তকারীদের মতেউদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে স্পষ্ট যে এলাকায় সাম্প্রতিক অতীতে সশস্ত্র তৎপরতা চলছিল। উখরুলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে টাংখুল নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।  সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই অন্তত  জন নিহত হন, জখম হন অনেকেই। পাশাপাশি, ৩০টিরও বেশি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে পাহাড়ি এ জেলা এখনো  অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলেই মনে করছে মণিপুর প্রশাসন।

অন্য দিকেবুধবার তেংনৌপাল জেলার মোরেহ থানার অন্তর্গত টি বংমল গ্রামেও পৃথক অভিযান চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। সেখানে একটি অস্ত্রভান্ডারের হদিস মেলে। উদ্ধার হয়েছে দুটি সিঙ্গল-ব্যারেল রাইফেলম্যাগাজিন-সহ চারটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল এবং ১৮টি আইইডি। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলেই আইইডিগুলি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।অন্যদিকে, চুরাচাঁদপুর জেলাতেও পৃথক একটি নিরাপত্তা অভিযানে সম্ভাব্য বড়োড়ো বিপদ এড়ানো গিয়েছে। ৩০ এপ্রিল নিয়মিত টহলের সময় মৌলসাং গ্রামের কাছে একটি সন্দেহভাজন বিস্ফোরক নজরে আসে ভারতীয় সেনার জওয়ানদের। প্রাথমিক ভাবে আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর রেড শিল্ড ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়াররা দ্রুত একটি বোম্ব ডিসপোজাল দল ঘটনাস্থলে পাঠান। সঙ্গে সঙ্গে এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টর কুকুরের সাহায্যে বিস্ফোরকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। পরে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়। সেনা সূত্রের দাবিসময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ওই বিস্ফোরক থেকে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

মণিপুরের সীমান্ত শহর মোরেহে অবশ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে অন্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ২০২৩ সালে সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার চিংথাম আনন্দকুমার সিংহ হত্যাকাণ্ডে এক মূল অভিযুক্তকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। এই গ্রেফতারি ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে শহরে। বৃহস্পতিবার এনআইএ জানায়ধৃতের নাম ওটখোথাং বাইতেওরফে ওথাং বাইতে। তিনি তেংনৌপাল জেলার মোরেহের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিগত সংঘাতের চরম পর্যায়ে একটি খেলার মাঠে জেলা পুলিশ দলের উপর সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিদের হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল।সে হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন মোরেহের এসডিপিও চিংথাম আনন্দকুমার সিংহ। তাঁর পেটে গুলি লাগে। পরে তিনি মারা যান। প্রথমে মোরেহ থানায় মামলা দায়ের হলেও ২০২৪ সালের মার্চে তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। সংস্থার দাবি, ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করা। এ মামলায় এর আগেই আর এক অভিযুক্ত কামগিনথাং গাংতে গ্রেফতার হয়েছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলছে।

ওটখোথাং বাইতের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মোরেহে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কুকি উইমেন ইউনিয়ন অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (কেডব্লিউইউ অ্যান্ড এইচআর)মোরেহ ব্লক বন্ধের ডাক দেয়। বিপুল সংখ্যক মহিলা মোরেহ থানার সামনে জড়ো হন। পরে তাঁরা থানায় ঢুকে পড়ে ধৃতের অবিলম্বে মুক্তির দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্যযাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনি  জঙ্গি ননবরং একজন ভিলেজ ভলান্টিয়ার ক্রমেই  বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার নেয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তেংনৌপাল জেলা প্রশাসনের দফতরেও ঢুকে পড়েন। স্থানীয় সূত্রের শুক্রবার রাত পর্যন্ত মোরেহে টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল। বেশ কয়েকটি সংগঠন এই গ্রেফতারিকে অন্যায্য বলে নিন্দা জানিয়ে ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি তুলেছে। মণিপুরের জেলায় ধারাবাহিক ভাবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রবিস্ফোরক ও বাঙ্কারের সংখ্যা দেখে প্রশাসনের একাংশের মতমণিপুরে অশান্তির আগুন এখনো পুরোপুরি নেভেনি। নিরাপত্তাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান  আগামী দিনেও জারি থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!