Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১, ২০২৬

‘জিজিয়া ধাঁচে কর’ : হজ যাত্রীদের বিমানভাড়া বৃদ্ধি ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিই কারণ, সাফাই কেন্দ্রের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘জিজিয়া ধাঁচে কর’ : হজ যাত্রীদের বিমানভাড়া বৃদ্ধি ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিই কারণ, সাফাই কেন্দ্রের

২০২৬ সালের হজ যাত্রীদের বিমানভাড়া একলাফে প্রায় ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধি ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবিপশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীরা এহেন সিদ্ধান্তকে ‘নয়া জিজিয়া কর’ বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে। যাত্রার একেবারে প্রাক্কালে এ ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে।  

সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনস্ত ‘হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়া গত ২৮ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়২০২৬ সালের হজযাত্রার জন্য ইতিমধ্যেই নিবন্ধিত সমস্ত যাত্রীকে অতিরিক্ত অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে হবে আগামী ১৫ মে-র মধ্যে। যাত্রা শুরুর কেন্দ্র যাই হোক না কেনএ নির্দেশ সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দামে তীব্র উর্ধ্বগতি ঘটেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনাবিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ও ইরায়েল-সম্পর্কিত পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলেই বিমান সংস্থাগুলি হজযাত্রীদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তোলে।  

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ীবিমান সংস্থাগুলি প্রথমে প্রতি যাত্রীর ক্ষেত্রে ৩০০ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর কেন্দ্রীয় সরকার সে দাবি কমিয়ে এককালীন ১০০ ডলার বৃদ্ধিতে অনুমোদন দেয়। অর্থাৎআন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক কম হারে বাড়তি বোঝা চাপানো হয়েছে বলেই সরকারের দাবি। হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে প্রতিজন যাত্রীর ক্ষেত্রে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাই এটি বাড়তি বোঝা নয়বরং তুলনামূলকভাবে কম চাপের একটি ব্যবস্থা।

সংখ্যালঘু বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এ সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে জানানবিমান সংস্থাগুলি প্রথমে প্রতি যাত্রী ৩০০ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার সেই চাপ কমিয়ে এককালীন ১০০ ডলার বৃদ্ধিতে সম্মতি দেয়। তাঁর দাবিএটি যাত্রীদের স্বার্থে নেওয়া একটি নিয়ন্ত্রিত সিদ্ধান্ত’, যাতে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে এ যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা।  অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনএর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবিইতিমধ্যেই হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৯০,৮৪৪ টাকা নেওয়া হয়েছেতার পর আবার অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা দাবি করা সম্পূর্ণ অন্যায্য। ওয়েইসির অভিযোগসরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নেওয়া মোট খরচ অনেক ক্ষেত্রেই বেসরকারি যাত্রার তুলনায় বেশি পড়ছেযা সাধারণ হজযাত্রীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর বক্তব্যঅধিকাংশ হজযাত্রীই ধনী ননবছরের পর বছর সঞ্চয় করে তাঁরা এই ধর্মীয় যাত্রার স্বপ্ন পূরণ করেন। এমন পরিস্থিতিতে এই বাড়তি অর্থ চাপানো অনুচিত এবং অবিলম্বে এই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা উচিত বলেও তিনি দাবি জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ীও এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেনযাত্রার একেবারে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত অর্থ চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। ইমরান প্রশ্ন তোলেনযদি এ সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়ে থাকেতবে তা আগে ঘোষণা করা হল না কেন ! তাঁর অভিযোগপরিকল্পনার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠনগুলিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জমিয়েত উলেমায়ে হিন্দ-এর একাধিক রাজ্য শাখা এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে সাধারণ হজযাত্রীদের উপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনের বক্তব্যঅধিকাংশ পুণ্যার্থীই সারা জীবনের সঞ্চয় জমিয়ে ধর্মীয় যাত্রায় যানফলে হঠাৎ করে এই ধরনের বাড়তি ব্যয় তাঁদের জন্য বড়ো ধাক্কা।

বিরোধীদের একাংশ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে জিজিয়া’ ধাঁচের কর বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের দাবিইতিহাসে অমুসলিমদের উপর আরোপিত এক ধরনের করের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছেযা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও কেন্দ্র সরকার ও বিজেপি সব অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করেবিষয়টিকে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা’ বলে দাবি করেছে। তবে, সাফাই যাই থাক হজযাত্রীদের এই বাড়তি ১০ হাজার টাকার বোঝা এখন আর শুধু অর্থনৈতিক ইস্যু নয়বরং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ফলে এই ভাড়া বৃদ্ধি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!