- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১, ২০২৬
অসমের চা বাগানে নতুন ইতিহাস ! মে দিবসের মজুরির অধিকার পেলেন অস্থায়ী শ্রমিকরা
চা শ্রমিকদের অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হলো উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসমে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মে দিবসের মজুরি পাওয়ার অধিকার পেলেন অস্থায়ী চা শ্রমিকরা। তাঁরা সাফল্যের কৃতিত্ব দিচ্ছে অসম টি লেবার ইউনিয়ন (এটিএলইউ)-কে। সংগঠনের দাবি, এটি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শ্রম আন্দোলনের ইতিহাসে এক ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’।
কয়েকদিন আগে, তিনসুকিয়ার সহকারি শ্রম কমিশনারের দফতরে বসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অস্থায়ী চা শ্রমিকদের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়, যারা এমকে টি এক্সপোর্ট লিমিটেডের অধীনস্থ দাইমুখিয়া (বর্তমানে রোজবেরি) এবং বাঘজান চা বাগানে কর্মরত। বৈঠকে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাগান ব্যবস্থাপনার আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা। অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর ধরে ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে, সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ী শ্রমিকদের কোনো মজুরি দেওয়া হয় না। স্থায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ছুটির মজুরি প্রযোজ্য হলেও, বৃহৎ অংশের অস্থায়ী শ্রমিকরা সে সুবিধা থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত ছিলেন। শ্রমিক সংগঠনের দাবি, এটি এক ধরনের ‘প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য’, যা দিনের পর দিন চলে এসেছে নীরবতার আড়ালে।
দীর্ঘ আন্দোলন, একাধিক দফা আলোচনার পর অবশেষে চাপের মুখে নড়েচড়ে বসে বাগান কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বাঘজান চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিকদের ২০২৫ সালের মে দিবসের বকেয়া মজুরি আগামী দেড় মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় না ঘটে, সে দিকেও নজর দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। এ সিদ্ধান্তকে শ্রমিক সংগঠনগুলি ‘দৃষ্টান্তমূলক জয়’ বলে উল্লেখ করেছে। এটিএলইউ নেতৃত্বের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে চলা বঞ্চনা আর শোষনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই ও সংগঠিত আন্দোলনের ফলেই বেনজির সাফল্য এসেছে। তাঁদের দাবি, এ কেবল একটি বাগান বা একটি কোম্পানির সমস্যা নয়, বরং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের অসংখ্য অস্থায়ী চা শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্ন।
সহকারি শ্রম কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাঁদের মতে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সক্রিয় হস্তক্ষেপ না থাকলে এই সমস্যার সমাধান এত দ্রুত সম্ভব হতো না। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এটিএলইউ-র সাধারণ সম্পাদক ইস্রাইল নন্দা, বাগান ইউনিট সভাপতি বিনন্দ নন্দা এবং সম্পাদক বিলাপ নন্দা-সহ একাধিক শ্রমিক প্রতিনিধি। দীর্ঘ আলোচনার পর যখন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা হয়, তখন শ্রমিক মহলে স্বস্তির ছায়া নামে বলে জানা গিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের আশা, এতদিন যে বঞ্চনা নীরবে চলেছে, তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত একটি নতুন দিশা খুলে দিতে পারে। তাঁদের মতে, আগামী দিনে অন্যান্য চা বাগানেও একই ধরনের দাবি আরও জোরালো হবে। ফলে আসামের চা শিল্পে অস্থায়ী শ্রমিকদের অধিকার প্রশ্নে এ ঘটনা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
❤ Support Us






