Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১, ২০২৬

অভিবাসী প্রসঙ্গে বাংলাদেশি সাংসদ আখতার হোসেনের বিতর্কিত মন্তব্য, তীব্র প্রতিক্রিয়া পদ্ম শিবিরের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অভিবাসী প্রসঙ্গে বাংলাদেশি সাংসদ আখতার হোসেনের বিতর্কিত মন্তব্য, তীব্র প্রতিক্রিয়া পদ্ম শিবিরের

পশ্চিমবঙ্গে সদ্য শেষ হয়েছে বিধানসভার ভোটগ্রহণ। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এরইমধ্যে বাংলাদেশের এক নেতা সাংসদ ঢাকায় সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, বুথফেরত সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ক্ষমতায় এলে লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে দেশে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশের সংসদে বক্তব্য রাখার সময় এনসিপি-র সদস্য সম্পাদক আখতার হোসেন বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ী হলে অবৈধ বাংলাদেশিদের ঢাকায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। আখতার হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের এক্সিট পোলে বিজেপির জয় দেখানো হচ্ছে। তা যদি সত্য হয়, বিজেপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে তারা বহু মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। এতে আমাদের জন্য এক বিরাট শরণার্থী সংকট তৈরি হবে। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে ‘অভিবাসীর ঢল’ নামতে পারে এবং ভারত থেকে মুসলিম অভিবাসীদের যে ফেরত পাঠানো হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আখতার হোসেন আরও বলেছেন, ‘আঞ্চলিকভাবে আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। বিজেপি হয়তো সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে অভিবাসীদের ঢল বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে চাইবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে মুসলিমদের (অবৈধ অভিবাসী) ফেরত পাঠানো হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমাদের এক হয়ে থাকতে হবে।’

আখতার হোসেনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওরা কী চায়? বাংলাদেশের পুরো জনসংখ্যা কি পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করুক? বাংলাদেশের উগ্রপন্থার সূচনা কি বাংলাতেই হোক? পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা কি বাংলাদেশের মুসলমানদের কারণে তাদের জীবিকা হারাক?… যারা বাংলাদেশ থেকে এখানে আসছে, তারা এক সময় এই দেশই ছেড়ে গিয়েছিল। কাউকে তাড়ানো হয়নি… এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র… আমরা আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে এক নীরব জনসংখ্যাগত আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা কোনো অবস্থাতেই এটিকে স্বাগত জানাতে পারি না, জানাবও না। আমি মনে করি, এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্য, জনসচেতনতা এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।’ নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে আখতার হোসেনের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন শমীক ভট্টাচার্য, যেখানে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে ।

অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ করে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে জোর দিয়ে বলেছেন যে, তৃণমূলের ‘সহায়করা ধীরে ধীরে সামনে আসছে।’ সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে নিশিকান্ত দুবে লেখেন, ‘বাংলাদেশের সাংসদ আখতার হোসেন বাংলাদেশ সংসদে বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে এবং বাংলাদেশি মুসলমানদের বিতাড়িত করবে; এটি বিপজ্জনক। তৃণমূল কংগ্রেসের সহযোগীরা ধীরে ধীরে সামনে আসছে।’

এক্সিট পোলের পূর্বাভাসে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর আখতার হোসেনের এ মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি-র শক্তিশালী অবস্থান এবং তৃণমূল কংগ্রেস বা টিএমসি-র পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে। সিএনএন-নিউজ-১৮-এর জন্য ভোটভাইব কর্তৃক একচেটিয়াভাবে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুসারে, প্রথম পর্বে ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৮৮ থেকে ৯৮টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে টিএমসি+ জোট ৫১ থেকে ৬১টি আসন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে । কংগ্রেস ২ থেকে ৪টি আসন পেয়ে প্রান্তিক অবস্থানে থাকতে পারে।

জনমত সমীক্ষা সংস্থা ‘টুডেস চাণক্য’ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য বড়ো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপির ১৯২টিরও বেশি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে তাদের বেশ এগিয়ে রেখেছে। মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রায় ১০০টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে অন্যান্য দলগুলো মাত্র কয়েকটি আসন পেয়ে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৬-এর নির্বাচনের প্রচারকালে অবৈধ অনুপ্রবেশ সবচেয়ে উত্তপ্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে এ বিষয়ে কেন্দ্রের ‘নিষ্ক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে বিজেপি ক্রমাগত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করার অভিযোগ করে আসছে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!