- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১, ২০২৬
হিমন্তের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ মামলা, পবন খেড়ার আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর শীর্ষ আদালতে
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীকে ঘিরে মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া বহুল চর্চিত মামলায় অবশেষে স্বস্তি মিলল কংগ্রেস নেতা পবন খেড়ার। শুক্রবার, তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপশি, বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ এস চান্দুরকরের বেঞ্চ গুয়াহাটি হাইকোর্টের আগের নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতাকে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসের শুরুতে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে। সেখানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিণিকি ভুঁইয়াকে নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন পবন খেড়া। তাঁর দাবি ছিল, রিণিকির একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে, দুবাইয়ে অঘোষিত সম্পত্তি আছে এবং একটি মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন। এহেন অভিযোগের পরই খেড়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন রিণিকি। অসম পুলিশও একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে, যেখানে মানহানির পাশাপাশি জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়। অসম পুলিশের অভিযোগ, খেরা সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর পাসপোর্টের নকল ও বিকৃত প্রতিলিপি প্রদর্শন করেছিলেন এবং সে ভিত্তিতেই বিভ্রান্তিকর দাবি তোলেন।
এদিন, শীর্ষ আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, পবনের অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি তদন্ত এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছেন। ফলে, অভিযুক্তের হেফাজতে নেওয়া জরুরি, কারণ এতেই সম্ভাব্য সহযোগী বা বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, খেরার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে যুক্তি দেন, গোটা মামলাটিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর বক্তব্য, খেড়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সর্বোচ্চ মানহানির পর্যায়ে পড়তে পারে, কিন্তু জালিয়াতি বা জনশান্তি ভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগ টিকবে না। তিনি আরও বলেন, আগাম জামিন না পেলে দেশের আইনি ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।
শুক্রবারের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তির আংশিক প্রতিফলন ঘটিয়ে জানায়, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ— দুই পক্ষের বক্তব্যেই রাজনৈতিক প্রভাবের ছাপ রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার, এবং তা খর্ব করতে হলে উচ্চতর মানদণ্ডে যুক্তি থাকতে হবে।’ সে কারণেই এই পর্যায়ে খেরাকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন নেই বলে মত শীর্ষ আদালতের। তবে আদালত কংগ্রেস নেতার উপর একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে, তলব করা হলে হাজিরা দিতে হবে এবং কোনোভাবেই প্রমাণে প্রভাব বিস্তার বা প্রমাণ নষ্ট করা চলবে না। আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র আগাম জামিনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ, মামলার মূল বিচারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রসঙ্গত, এ মামলার আইনি পথচলাও কম ঘটনাবহুল নয়। প্রথমে খেড়া তেলঙ্গানা হাই কোর্টে আবেদন করে এক সপ্তাহের ট্রানজিট আগাম জামিন পান। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় অসম সরকার। তাদের যুক্তি ছিল, অসমে মামলা দায়ের হওয়া সত্ত্বেও অন্য রাজ্যের আদালতে আবেদন করার কোনো যুক্তি নেই। ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট তেলঙ্গানা হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় এবং খেরাকে গুয়াহাটি হাই কোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে গুয়াহাটি হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেলে তিনি ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। এদিন, গুয়াহাটি উচ্চ আদালতের সে নির্দেশকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাইকোর্ট নথিপত্র যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি এবং কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তের উপর অযথা দায় চাপানো হয়েছে।
❤ Support Us






