- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- মে ১, ২০২৬
৭ বছরেই বিশ্বরেকর্ড ! বিপজ্জনক পক প্রণালীতে ২৯ কিমি সাঁতার রাঁচির ঈশাঙ্কের
বয়স মাত্র ৭। খেলাধুলো, স্কুল আর শৈশবের স্বাভাবিক কৌতূহলের বয়স। অথচ এ বয়সেই সমুদ্রজয়ের এমন নজির গড়েছে সে, যা রীতিমতো বিস্মিত করেছে ক্রীড়ামহলকে। রাঁচির ধুরওয়া এলাকার খুদে সাঁতারু ঈশাঙ্ক প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ও বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পেরিয়ে শ্রীলঙ্কার তালাইমান্নার থেকে ভারতের ধনুশকোডি পর্যন্ত পক প্রণালী সাঁতরে অতিক্রম করেছে। মোট সময় লেগেছে ৯ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। আর তাতেই গড়ে উঠেছে এক নতুন বিশ্বরেকর্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬-এ এই নজির গড়ে সে। প্রবল স্রোত, অস্থির জলরাশি আর দীর্ঘ দূরত্ব; সব বাধাকে অতিক্রম করে নির্ধারিত পথ সম্পূর্ণ করে সে। আয়োজক সংস্থা ইউনিভার্সাল রেকর্ডস ফোরাম-এর তরফে তাকে ‘ইয়ংগেস্ট অ্যান্ড ফাস্টেস্ট পক প্রণালী সাঁতারু’ হিসেবে বিশ্বরেকর্ড স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পরিবার ও প্রশিক্ষকদের দাবি, ঈশাঙ্কের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন। রাঁচির ধুরওয়া ড্যামে প্রতিদিন টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা করে অনুশীলন করত সে। মূলত কোচ অমিত কুমার জয়সওয়াল ও বজরং কুমারের তত্ত্বাবধানে তার প্রশিক্ষণ চলত। ছোটো বয়সেই তার মধ্যে যে শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তা দেখা গিয়েছে, তা প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদেরও।
ছাত্রের কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত হয়েছে তার স্কুলও। রাঁচির ডিএভি শ্যামলী স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া ঈশাঙ্কের অর্জনকে কেন্দ্র করে গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, এত অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক মানের এমন সাফল্য সত্যিই বিরল। তাঁর কথায়, কঠিন সমুদ্র পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে এমন সাফল্য অর্জন করা শুধু শারীরিক সক্ষমতার পরিচয় নয়, বরং অসাধারণ সাহস, শৃঙ্খলা এবং অদম্য মানসিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ঈশাঙ্ক প্রমাণ করেছে যে, সঠিক নির্দেশনা, নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম থাকলে যে কোনো লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, এ সাফল্য শুধু স্কুল বা রাঁচির নয়, গোটা দেশের জন্যই গর্বের। একই সঙ্গে তিনি খুদে সাঁতারুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনাও করেন। এত অল্প বয়সে এমন সাফল্য নিঃসন্দেহে বিরল। পক প্রণালীর মতো কঠিন ও বিপজ্জনক জলপথ অতিক্রম করে ঈশাঙ্ক যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, তা ক্রীড়া ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
❤ Support Us








