- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১, ২০২৬
মুম্বইয়ে বাজেয়াপ্ত ১,৭৪৫ কোটির মাদক,বৃহৎ আন্তর্জাতিক চক্র ভাঙল এনসিবি। ‘অপরাধীদের নির্মমভাবে দমন করব’ বার্তা অমিত শাহর
একটি সুতো ধরে টানতে টানতে খুলে গেল বিশাল জাল! মুম্বইয়ে ১,৭৪৫ কোটির মাদক বাজেয়াপ্ত করে বড়ো আন্তর্জাতিক চক্রের পর্দাফাঁস করল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। উদ্ধার হয়েছে ৩৪৯ কেজি উচ্চমানের কোকেন। সাম্প্রতিক কালে দেশে এমন বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধারের নজির বিরল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এ সাফল্যের কথা শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি লিখেছেন, ‘এনসিবি একটি বড়ো আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার করেছে। মাদকচক্রকে কড়া হাতে নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর…’। তাঁর সংক্ষিপ্ত বার্তায় স্পষ্ট, মাদকচক্রের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে কেন্দ্র। তবে শাহ-র ওই পোস্টে আন্তর্জাতিক চক্রটির গঠন বা বিস্তার নিয়ে বিশদ তথ্য মেলেনি। যদিও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তদন্তের সূত্রপাত হয়েছিল অপেক্ষাকৃত ছোটো মাদক চালান থেকে। সে সূত্র ধরেই ধাপে ধাপে পৌঁছে যাওয়া গিয়েছে বৃহত্তর নেটওয়ার্কের কাছে। তদন্তকারী মহলের মতে, এই ‘বটম-টু-টপ’ পদ্ধতিই গোটা চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে।
ঘটনাচক্রে, এ অভিযানের সময়কাল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র কয়েক দিন আগেই তুরস্ক থেকে ভারতে আনা হয়েছে দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মাদক কারবারি সেলিম দোলাকে। দাউদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নজর ছিল তদন্তকারীদের। যদিও মুম্বইয়ে সাম্প্রতিক মাদক উদ্ধারের সঙ্গে সেলিমের প্রত্যাবর্তনের সরাসরি কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, তুরস্ক থেকে ভারতে আনার পর প্রথমে দিল্লিতে এনসিবির হেফাজতে রাখা হয়েছিল সেলিম দোলাকে। পরে তাঁকে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের এক আদালত তাঁকে ৮ মে পর্যন্ত এনসিবি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারত থেকে পালানোর পর সেলিম দোলা বুলগেরিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার করে তুরস্কে বসবাস করছিলেন। শুধু তা-ই নয়, নিজের পরিচয় গোপন করতে নামও বদলে ফেলেছিলেন। সেখানে ‘হামজা’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি এবং সেই ভুয়ো পরিচয়েই মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।এই প্রেক্ষাপটে মুম্বইয়ের সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযান নতুন মাত্রা পাচ্ছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বার করতেই একাধিক দিক থেকে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
এনসিবির দাবি, এ অভিযানে শুধু বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারই নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশও চিহ্নিত হয়েছে। ফলে আগামী দিনে আরও গ্রেফতার ও অজানা তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বিপুল পরিমাণে মাদক উদ্ধারের এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত পরিমাণ কোকেন বাজারে ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ত একাধিক মহানগরে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উপর।
❤ Support Us






