Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২, ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচনের গণনা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশন তাদের মতো কাজ করবে,  নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিধানসভা নির্বাচনের গণনা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশন তাদের মতো কাজ করবে,  নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পি. এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি পি. এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দিল এ মুহূর্তে এই মামলায় আদালত কোনো নির্দেশ দিতে রাজি নয় আদালত। নির্বাচন কমিশন তাদের জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। শনিবার তৃণমূলের পক্ষে এই মামলায় সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু।

শনিবার, আদালতে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনের জন্য প্রথমেই বিচারপতিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন কপিল সিব্বল। তার পর তিনি বলেন, ‘আমাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নোটিস জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেটা জানতে পারি ২৯ তারিখে। কমিশন আশঙ্কা করছে— প্রত্যেকটি বুথে নাকি সমস্যা বা অশান্তি হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের ধারণা তারা কোথা থেকে পাচ্ছে? এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

এর পর কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের নিয়োগ প্রসঙ্গে কপিল সিব্বল বলেন, ‘গণনায় প্রতিটি টেবিলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের একজন কর্মী রয়েছেন, যাঁদের মাইক্রো অবজার্ভার বলা হয়। তা হলে আবার কেন আরও একজন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী প্রয়োজন?’ কপিল সিব্বল আরও বলেন, ‘‘সার্কুলারেই বলা রয়েছে, একজন রাজ্য সরকারের কর্মী থাকা উচিত। কিন্তু তারা কোনও রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিকে নিয়োগ করছে না। সিইও বলেছেন, বিভিন্ন মহল থেকে গণনা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সরাসরি রাজ্য সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে। কিছু না কিছু তথ্য তো থাকা উচিত। প্রতিটি বুথে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেই তথ্য কোথায়? তারা এই বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। আর কেন আমাদের জানানো হল না যে, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিকে রাখা হবে?’’

তখন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন করেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যে আলোচনা করতে হবে সেটা কোথায় বলা রয়েছে?’
উত্তরে কপিল জানান, সাধারণত তাঁদের জানানো হয়ে থাকে এই সংক্রান্ত তথ্য। বিচারপতি বলেন, ‘কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারেরও হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারেরও হতে পারেন। সুতরাং, যখন এই বিকল্পটি নিয়মেই রয়েছে, তখন আমরা বলতে পারি না যে এই নোটিফিকেশনটি বিধি-বিরোধী।’ বিচারপতি বলেন, ‘কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে দু-জনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী হবেন। এতে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না।’ তৃণমূলের তরফে এর পর কপিল দাবি করেন, সার্কুলার মেনে কাজ করা হচ্ছে না।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘যদি সার্কুলারে এমনটা বলা থাকত, তবুও আমরা তাতেও কোনো অন্যায় খুঁজতে পারতাম না। কারণ নিয়মেই বলা আছে—কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের কর্মীকে এই পদে নিয়োগ করা যেতে পারে।’ তৃণমূলের আইনজীবী এর পরে যুক্তি দেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে থেকে এলোমেলো ভাবে বাছাই হওয়া উচিত ছিল। তাতে বিচারপতি নরসিংহ রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের পৃথক করে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের আলাদা হিসাবে দেখার মধ্যে আর একটি ভ্রান্তি রয়েছে। আসলে তাঁরা সকলে সরকারি কর্মচারীই।’’

নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী বলেন, ‘গণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারেরই আধিকারিক। তা ছাড়া, প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট গণনায় থাকবে। তাই মামলায় যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ এর পর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের মামলায় তারা এখনই কোনও নির্দেশ দিতে রাজি নয়। কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। অতিরিক্ত কোনো নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই আপাতত। সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের মামলার শুনানি তারপর শেষ হয়।

কমিশনের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল তারা যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, সেই অনুযায়ী কাজ হবে। তাই আদালত অতিরিক্ত আর কোনও নির্দেশ দেয়নি। আপাতত আর কোনও নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করেছেন বিচারপতিরা। এর আগে এই একই মামলা হাই কোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে যায়। শীর্ষ আদালতও এই মামলা শুনে কোনো নির্দেশ দিল না। ফলে নির্বাচন কমিশন তাদের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী গণনার কাজ করতে পারবে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের গণনার কাজে নিয়োগ করে আর কোনো বাধা থাকলো না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!