- এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
- জুন ৩, ২০২৫
চাঁদের ছোঁয়া, নক্ষত্রের খোঁজ: জুনের আকাশে ‘স্ট্রবেরি মুন’ ও আরো ৯টি মহাজাগতিক খেলা
মহাকাশ যেন রূপকথার পাতা! রাত যত গভীর হয়, মহাজাগতিক দৃশ্য ততই রহস্যময় হয়ে ওঠে। জুন মাস নিয়ে আসছে বিস্ময়কর মহাজাগতিক উপহার — যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ১১ জুনের পূর্ণিমা, যাকে বলা হচ্ছে ‘স্ট্রবেরি মুন’। তবে চাঁদের লাবণ্যে থেমে থাকছে না আকাশের গল্প। এই মাসে টেলিস্কোপ হাতে তুলে নিতে পারেন শৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। মিলতে পারে চাঁদের ছায়ায় পৃথিবীর প্রতিবিম্ব থেকে শুরু করে উল্কার ঝরনা দেখা পর্যন্ত বহু বিরল দৃশ্য।
এ বছর, ১১ জুন, ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে পূর্ণতা পাবে এই পূর্ণিমা। তবে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মিলবে ১০ জুন সন্ধ্যায়, যখন চাঁদ ধীরে ধীরে উঠবে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে। এই সময়েই চাঁদের ডানদিকে দেখা যাবে উজ্জ্বল তারা অন্তারেস, স্করপিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জের অঙ্গ। ‘স্ট্রবেরি মুন’ নামটি এসেছে উত্তর আমেরিকার জনজাতির সংস্কৃতি থেকে। এই সময়টা বুনো স্ট্রবেরি পাকার সময়। তবে কেউ কেউ একে বলেন ‘সবুজ ভুট্টা চাঁদ’, ‘গরম চাঁদ’ বা ‘ফুল ফোটা চাঁদ’। ইংরেজ ও সেল্টিক সংস্কৃতিতে আবার আছে ‘মধুর চাঁদ’, ‘রোজ চাঁদ’ বা ‘ঘোড়ার চাঁদ’ নামও। চাঁদ উঠবে অপেক্ষাকৃত নিচু কোণে, কারণ পূর্ণিমা সব সময় সূর্যের ঠিক বিপরীত দিকে হয়। জুনে যখন সূর্য সবচেয়ে ওপরে উঠে, তখন চাঁদও সবচেয়ে নিচে থাকে দিগন্তের কাছে।
গ্রহদের অবস্থানও আকাশপ্রেমীদের নজর কাড়বে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে নিচু অবস্থানে দেখা দেবে বুধ গ্রহ। শুক্র থাকবে পূর্ব আকাশে, অত্যন্ত উজ্জ্বল ভোরের তারা রূপে। সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে দেখা যাবে মঙ্গল। বৃহস্পতি মাসের শুরুতে সূর্যের আলোয় হারাবে, ফলে তাকে দেখা যাবে না। মধ্যরাতে পূর্ব আকাশে উঠবে শনি গ্রহ—যার বলয় দুরবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সূর্যের আড়াল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে ইউরেনাস, আর নেপচুন ও প্লুটো ধরা দেবে কেবলমাত্র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দূরবীক্ষণ যন্ত্রেই। ১ জুন তারিখে ভোরবেলা পূর্ব আকাশে শুক্র তার সর্বোচ্চ পশ্চিম প্রসারণে পৌঁছবে। এই সময় শুক্রকে বলা হয় ‘ভোরের তারা’। ২ জুন তারিখে মহাকাশে গ্রেট হারকিউলিস ক্লাস্টার বা মেসিয়ার ১৩ তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছবে — দুরবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যাবে শত সহস্র তারা একত্রে জ্বলজ্বল করছে। ৭ জুন তারিখে দিনের বেলায় হবে অ্যারিটিড উল্কাবৃষ্টি। যদিও খালি চোখে দেখা কঠিন, তবে রাডারে ধরা পড়বে আশ্চর্য শব্দ — ঠিক যেন এক্স ফাইলসের ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড! ১১ জুন তারিখে পূর্ণিমা — স্ট্রবেরি মুন দেখা যাবে পূর্ণ রূপে। এই সময় চাঁদের রং হতে পারে কমলা বা হলুদাভ, যা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে হয়। ছবির জন্য একেবারে উপযুক্ত সময়। ১৬ জুন তারিখে সূর্যাস্তের আগে রেগুলাস তারার পাশে থাকবে মঙ্গল গ্রহ। মধ্যরাতে দেখা যাবে পাখির পাখার মতো গঠনের একটি নক্ষত্রপুঞ্জ, যাকে বলা হয় প্রজাপতি ক্লাস্টার। ২২ জুন তারিখে মধ্যরাতে দৃশ্যমান থাকবে ল্যাগুন নেবিউলা — তারাদের জন্মস্থল, এক বিশাল গ্যাসের মেঘ। ২৫ জুন অমাবস্যা, অর্থাৎ আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকার। মিল্কিওয়ে বা আমাদের ছায়াপথ দেখতে এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। ২৭ জুন তারিখে ঘটবে বুউটিড উল্কাবৃষ্টি — রাতে অসংখ্য উল্কা পড়তে দেখা যাবে। ৩০ জুন তারিখে মঙ্গল গ্রহ ও চাঁদ থাকবে একে অপরের খুব কাছাকাছি। পাশাপাশি দেখা যাবে পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত আলোয় চাঁদের অন্ধকার অংশের হালকা আলো — একে বলা হয় পৃথিবীর দীপ্তি বা ‘আর্থশাইন’।
জুন মাসেই উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের সূচনা। ২০ জুন রাতে ১০টা ৪২ মিনিটে ঘটবে গ্রীষ্মকালীন সূর্যক্রান্তি। এই সময় সূর্য উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থান করবে। ফলে দিনের আলো থাকবে দীর্ঘ সময়জুড়ে।শেষ কথা, আকাশ দেখার জন্য সব সময় দুরবীক্ষণ যন্ত্র লাগে না। একটি পরিষ্কার আকাশ, একটু সময় আর আগ্রহ থাকলেই মহাজাগতিক দৃশ্য নিজেকে মেলে ধরে। স্ট্রবেরি মুন হোক, মঙ্গল-চাঁদের ঘনিষ্ঠতা, কিংবা দূরে মিল্কিওয়ের ধবল রেখা— স্মার্টফোনেই আপনি বন্দি করে রাখতে পারেন রাতের এই সৌন্দর্য। আকাশ দেখুন, ছবি তুলুন, আর সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন #aramvaakash হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে।
❤ Support Us





