- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৭, ২০২৫
হাতে টানা রিকশা ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত সুপ্রিম কোর্টের, চালকদের পুনর্বাসনের নির্দেশ
হাতে টানা রিকশা অমানবিক এবং সংবিধানের মূলষবোধের পরিপন্থী। অবিলম্বে হাতে টানা রিকশা চালকদের পুনর্বাসন দিতে হবে। এমনই নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পাহাড়ি এলাকায় ই–রিকশা চালু করার বিষয়ে এক আবেদনের শুনানির সময় এমনই নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই।
মহারাষ্ট্রের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পরিবেশ সংবেদনশীল এবং অটোমোবাইল মুক্ত মাথেরান হিল স্টেশনে দর্শনার্থীদের বহন করার জন্য একমাত্র অবলম্বন হাতে টানা রিকশা। এখানে হাতে টানা রিকশার পরিবর্তে ই–রিকশা চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই নিয়ে আদালতে মামলা হয়। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন এবং এনভি আঞ্জারিয়ার একটা বেঞ্চ আজাদ রিকশা চালক সমিতির মামলায় প্রচলিত অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই বলেন, ‘এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক যে পাঞ্জাবের সাইকেল রিকশাচালকদের ওপর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ৪৫ বছর পরেও, মাথেরানে একজন মানুষের হাতে টানা রিকশায় আরেকজনকে বহন করার অমানবিক প্রথা প্রচলিত। আমরা কি সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত প্রতিটি মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রতি বেঁচে আছি? দুর্ভাগ্যবশত, উত্তরটি নেতিবাচক। সংবিধানের ৭৫ বছর পরেও এই ধরনের অমানবিক আচরণ অব্যাহত রাখা সকল নাগরিকের প্রতি ‘আমরা জনগণ’–এর প্রতিশ্রুতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘনের শামিল হবে।’
বিচারপতি গাভাই আরও বলেন, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, রাজ্যকে হাতে টানা রিকশা চালানো লোকদের জন্য একটা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা মর্যাদার সাথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।’ বেঞ্চ মহারাষ্ট্র সরকারকে ই–রিকশা প্রকল্পের জন্য গুজরাটের সর্দার সরোবর বাঁধের পরিকল্পনা অনুসরম করতে বলেছে। সর্দার সরোবর বাঁধে পর্যটকদের পরিবহনের জন্য সর্দার প্যাটেল মূর্তির আশেপাশে উপজাতি মহিলাদের ১৫০টি ই–রিকশা কিনে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটা কেবল বাঁধের আশেপাশে বসবাসকারী উপজাতি মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সকালে মহিলারা ১৫০ টাকা বা তারও বেশি ফি জমা দিয়ে একদিনের জন্য একটা রিকশা ভাড়া নেন। পর্যটকদের পরিবহন করে তারা যা আয় করেন, তা তারা বাড়িতে নিয়ে যান।
বিচারপতি গাভাই সর্দার সরোবর বাঁধের প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘মহারাষ্ট্র সরকার মাথেরানের জন্য ই–রিকশা কিনতে পারে এবং শুধুমাত্র তাদের জন্য ভাড়া দিতে পারে, যারা হাতে টানা রিকশা চালায়, তাদের পুনর্বাসনের জন্য।’ মাথেরানের ওপর যার নিয়ন্ত্রণ, সেই রায়গড় জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা হাতে রিকশা টানার কাজে নিয়োজিত, তাদের চিহ্নিত করতে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, ই–রিকশাগুলিকে প্রকৃত এবং অভাবী ব্যক্তিদের দেওয়ার পর অবশিষ্ট ই–রিকশাগুলি আশেপাশে বসবাসকারী উপজাতি মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে। রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বেঞ্চ বলেছে, তহবিলের অভাবকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে মহারাষ্ট্র সরকারকে।
❤ Support Us







