Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • আগস্ট ১৩, ২০২৫

‘সিন্ধু জলচুক্তি’ ঘিরে উত্তেজনার স্রোত অব্যাহত। ‘এক ফোঁটা জলও নিতে দেব না’ হুঁশিয়ারি শেহবাজ শরিফের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘সিন্ধু জলচুক্তি’ ঘিরে উত্তেজনার স্রোত অব্যাহত। ‘এক ফোঁটা জলও নিতে দেব না’ হুঁশিয়ারি শেহবাজ শরিফের

‘সিন্ধু জলচুক্তি’ স্থগিত নিয়ে আরো একবার ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়াল ইসলামাবাদ। একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে ‘জলযুদ্ধ’-এর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের। বুধবার, ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নয়াদিল্লিকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘শত্রুকে বলতে চাই, আমাদের জল থামানোর হুমকি দিলে ভুলে যেও না, এক ফোঁটাও নিতে দেবে না পাকিস্তান। এমন শিক্ষা দেব, জীবনেও ভুলবে না।’ সিন্ধু নদীর জলকে ‘পাকিস্তানের জীবনরক্ত’ বলে উল্লেখ করে শরিফের সাফ কথা, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের কোনো প্রশ্নই নেই। পাকিস্তানের অধিকারে কোনো আপস চলবে না।’

শুধু পাক-প্রধানমন্ত্রীই নন, তার আগেই ভারত-বিরোধী সুরে গর্জে উঠেছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘ভারতের এ পদক্ষেপ পাকিস্তানের প্রতি মারাত্মক ক্ষতি করেছে। দেশবাসীকে বলছি, মোদির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন।’ সেনাপ্রধান আসিম মুনির তো একধাপ এগিয়ে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘যদি অস্তিত্বের প্রশ্ন ওঠে, পাকিস্তান ‘অর্ধেক পৃথিবী’[ ধ্বংস করে দেবে।’

বস্তুত, এপ্রিল মাসের পাহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই পাকিস্তানকে পাল্টা চাপে রেখেছে নয়াদিল্লি। কাপুরুষোচিত হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে মোদী সরকার। যার মধ্যে অন্যতম, ১৯৬০ সালের ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ স্থগিত রাখা। চুক্তি অনুযায়ী, বিয়াস, রবি ও সতলজ নদীর জল ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার ভারতের। অন্যদিকে, সিন্ধু, ঝেলম ও চেনাব নদীর জল ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তান। এই ৩টি নদীর উপর ভারতের যে কোনো প্রকল্প গড়তে হলে ইসলামাবাদের অনুমতি লাগে। কিন্তু সে নিয়মকে কার্যত অগ্রাহ্য করেই, চেনাব নদীর ওপর ১৮৫৬ মেগাওয়াটের বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক আরো একবার ভারতের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘চুক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম অবিলম্বে পুনরায় শুরু করুক ভারত। এবং নিজের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার পূর্ণভাবে পালন করুক।’ এদিকে, পাক সেনাপ্রধানের পারমাণবিক হুমকির পাল্টা জবাবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের কটাক্ষ, ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে তর্জন-গর্জন পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস, তা-ও আবার এক মিত্র দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে। এমন মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!