Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫

কলকাতায় ‘যৌথ সেনাবাহিনী সম্মেলন’-এ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ৩ শাখার সমন্বয়ে জয়েন্ট মিলিটারি স্টেশন তৈরির সীদ্ধান্ত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতায় ‘যৌথ সেনাবাহিনী সম্মেলন’-এ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ৩ শাখার সমন্বয়ে জয়েন্ট মিলিটারি স্টেশন তৈরির সীদ্ধান্ত

সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোয় যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে ভারত। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম—বর্তমানে বিজয় দুর্গ—এ আয়োজিত সম্মিলিত কমান্ডার সম্মেলন ২০২৫-এ স্থির হলো, দেশের প্রথম ৩টি যৌথ সামরিক স্টেশন গড়া হবে। একই সঙ্গে স্থলসেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার শিক্ষা শাখাকে একীভূত করে তৈরি হবে অভিন্ন ‘ত্রিসেবা শিক্ষা কোর’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ভাষায়, এ এক ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’।

সম্মেলনের শেষ দিনে এ ঘোষণার পর প্রতিরক্ষা মহলে নয়া উত্তেজনা। সামরিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, অভিন্ন শিক্ষা কোর শুধু মানবসম্পদের যৌথ ব্যবহারই নিশ্চিত করবে না, ভবিষ্যতে ৩ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কেও করবে আরো সুসংহত। এর ফলে প্রশাসনিক ব্যয় কমবে, নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ আরো কার্যকর হবে, একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করা যাবে সেনাদের। যৌথ সামরিক স্টেশনগুলির মাধ্যমে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর লজিস্টিকস, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও রসদ একত্রে ব্যবহার হবে। এক একটি স্টেশনের নেতৃত্ব নেবে একটি বাহিনী, বাকিরা যুক্ত থাকবে অভিন্ন কাঠামোয়। সূত্রের খবর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদ, গ্বালিয়র, পুণে এবং সেকেন্দরাবাদ তালিকার আলোচনায় রয়েছে। বিশেষত মুম্বইয়ে নৌবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ স্টেশন গঠনের দিকেই ঝুঁকছে আলোচনা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘থিয়েটারাইজেশন’—অর্থাৎ ৩ বাহিনীর ১৭টি পৃথক কমান্ডের বদলে একীভূত থিয়েটার কমান্ড গঠন। আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনে দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবস্থা চালু আছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, থিয়েটার কমান্ড চালু হলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তিন বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় হবে আরো দ্রুত ও কার্যকর। ফলে শত্রুপক্ষের মোকাবিলার ক্ষমতাও বহুগুণ বাড়বে। যদিও বিমানবাহিনী শুরু থেকেই এমন পরিকল্পনায় সতর্ক। বিমানপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং-এর যুক্তি, সীমিত সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও কমব্যাট সম্পদ আরো বিভাজিত হলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাঁর প্রস্তাব, তড়িঘড়ি থিয়েটারাইজেশনে না গিয়ে আগে দিল্লিতে চিফস অব স্টাফ কমিটির অধীনে একটি যৌথ পরিকল্পনা কেন্দ্র গঠন করা হোক। তবে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ও নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশকুমার ত্রিপাঠীর বক্তব্য স্পষ্ট— থিয়েটারাইজেশন সময়ের দাবি, একে এড়ানো সম্ভব নয়।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধনীতি ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিডিএস প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ মেনে তৈরি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে মহাকাশ, সাইবার, তথ্য ও বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ২০২৫ সালকে ‘সংস্কারের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সম্মিলিত কমান্ডার সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলিই ওই সংস্কারেরই ভিত্তি। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এ পদক্ষেপ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে একীভূত, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ও আরও চটপটে যুদ্ধযন্ত্রে রূপান্তরের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। লক্ষ্য— জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বহুমাত্রিক হুমকির মোকাবিলা এবং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভারতের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!