- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৬, ২০২৫
উন্নয়নের টাকা অন্যখাতে খরচ। উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী প্রাক্তন মন্ত্রী, অভিযোগ রাজ্য বিজেপি সভাপতির ।
নাগরকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলা, অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে
উত্তরবঙ্গের জন্য বরাদ্দ টাকা অন্য খাতে খরচ করা হয়, দাবি বিজেপি রাজ্য সভাপতির । এজন্য সরাসরি গৌতম দেবকে দায়ী করেছেন শমীক ভট্টাচার্য । সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী থাকাকালীন বিধানসভায় নীরব থাকতেন গৌতম দেব । শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ উত্তরবঙ্গের জন্য বরাদ্দ টাকা এখানের উন্নয়নে খরচ না হয়ে অন্য খাতে খরচ হয়েছে । উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তিনি সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন । সেখানেই তৃণমূল প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেছেন, উত্তরবঙ্গের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ।
সোমবার উত্তরবঙ্গের বন্যাক্রান্ত মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দিতে গিয়ে হামলার শিকার হলেন বিজেপি-র মালদহ উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ খগেন মুর্মু। সোমবার দুপুরে জলপাইগুড়ির নাগরকাটায় ঘটে যাওয়া সেই রক্তাক্ত হামলার ছবি ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র রাজনৈতিক তরজায় জড়িয়ে পড়েছে রাজ্য। ঘটনাস্থলেই আহত হন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ-সহ আরও কয়েকজন দলীয় নেতাও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খগেন মুর্মুকে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে।
সোমবার সকালে মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ যখন দুর্যোগপীড়িত এলাকা পরিদর্শনে যান, তখনই বামনডাঙা চা বাগানের কাছে তাঁদের উপর চড়াও হয় শতাধিক উত্তেজিত জনতা। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। এরপরই বাঁশ, জুতো, লাঠি ও পাথর নিয়ে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। পাথরের আঘাতে মাথা ফেটে যায় খগেন মুর্মুর। স্থানীয় সূত্রে খবর, হঠাৎ করেই নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এক ব্যক্তি পিছন থেকে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সাংসদ খগেন মুর্মুকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন নিরাপত্তারক্ষীরা, তখনই শুরু হয় ব্যাপক ইটবৃষ্টি। তাঁদের গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে ইট ও পাথর। আহত হন খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষ। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও শতাধিক মানুষ এখনো জড়ো হয়ে রয়েছেন বামনডাঙা এলাকায়। সূত্রের খবর, খগেন মুর্মুর অবস্থা উদ্বেগজনক। ঘটনার পর এক ভিডিওবার্তায় বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘আমাদের গাড়ির একটাও কাচ বাকি নেই। খগেনদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। কোনো মতে আমরা এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে আসি।’
ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ফোনে কথা বলেন খগেন মুর্মুর সঙ্গে। দলীয় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য বিজেপির কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য লিখেছেন, ‘তৃণমূলের জঙ্গলরাজ চলছে বাংলায়! উত্তর মালদহের দুইবারের সাংসদ এবং একজন সম্মানীয় আদিবাসী নেতার উপর হামলা চালানো হলো! তাঁর ‘অপরাধ’ তিনি বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন।’ আক্রমণের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘উত্তরবঙ্গ যখন বন্যা, ধসের কবলে, তখন মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় সেলিব্রিটিদের সঙ্গে কার্নিভালে নাচছেন! আর সেই সুযোগেই ‘বিশেষ সম্প্রদায়ের’ দুষ্কৃতীদের দিয়ে বিজেপি সাংসদ-বিধায়কদের রক্তাক্ত করে তোলা হচ্ছে।’ রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এটা একেবারে স্পষ্ট যে, বিজেপি-র ত্রাণ কার্যক্রম থামাতেই এই হামলা। রাজ্য সরকার ব্যর্থ, আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই এমন আক্রমণ।’ ঘটনার জেরে শিলিগুড়ি বিমানবন্দর থেকে সোজা হাসপাতালে পৌঁছেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।
তবে এ পর্যন্ত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই হামলা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বিজেপির অভিযোগ খারিজ করে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেছেন, ‘এই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত। ঘটনাস্থলে কোনো রাজনৈতিক পতাকা ছিল না। মানুষ তাঁদের ব্যর্থ জনপ্রতিনিধিদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাত্র। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও এ দিন দুপুরেই উত্তরবঙ্গ সফরে রওনা দিয়েছেন। তাঁর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি হাশিমারায় এয়ার ফোর্স স্টেশনে নামবেন, সেখান থেকে ‘ঘটনাস্থল’ নাগরকাটায় যাবেন।
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো যাবে না? ত্রাণ দিতে গেলেই রক্তাক্ত হতে হবে?— প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক মহল। উত্তরবঙ্গের বুকে মেঘ ভারি, তার উপর রাজনীতির ঘনঘটা। প্রকৃতির নির্মম রোষে ইতিমধ্যেই কার্যত ভেঙে পড়েছে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চল। নাগরাকাটায় শনিবার রাত থেকেই অঝোর বৃষ্টি ও পাহাড়ি স্রোতে ভেসে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম, সেতু, রাস্তাঘাট। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বামনডাঙা চা বাগানের মডেল ভিলেজ— যেখানে ৫০০-রও বেশি পরিবার কোমর জলে ডুবে রয়েছেন। নিকাশি না থাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃত ২৩ জন। বেসরকারি মতে সংখ্যাটা ২৮। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক দুই মাসের শিশু-সহ একাধিক মহিলা ও বয়স্ক নাগরিক। একাংশের এখনো খোঁজ নেই। ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি সেতুর অংশ ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি বিপর্যস্ত।এনডিআরএফ-সহ প্রশাসনের তৎপরতা সত্ত্বেও দুর্গত মানুষজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না সব জায়গায়। প্রতিটি কোণে মৃত্যু আর ধ্বংসের ছবি। স্থানীয়দের আবার ফিরে এসেছে ১৯৬৮ সালের ভয়াবহ তিস্তা বন্যার প্রলয়।
❤ Support Us







