- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৬, ২০২৫
জাতি গণনায় অংশ নেব না, জরিপ ফর্মে কী লিখলেন নারায়ণ ও সুধা মূর্তি ?
‘আমরা কোনও পিছিয়ে পড়া জাতিভুক্ত নই। তাই এই জরিপে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না।’ এমনই সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে কর্নাটক সরকারের জাতি ভিত্তিক সমাজ-শিক্ষা জরিপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেন ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তি ও তাঁর স্ত্রী, প্রখ্যাত লেখিকা ও সমাজসেবী সুধা মূর্তি।
কর্ণাটক রাজ্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি কমিশনের উদ্যোগে চলমান এই ‘জাতি জরিপ’ বা ‘সামাজিক ও শিক্ষাগত সমীক্ষা’ ইতিমধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। একাধিক বিশিষ্ট নাগরিক এতে অংশ নিচ্ছেন, কেউ বা বিরত থাকছেন। সে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন দেশের কর্পোরেট জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ নারায়ণ মূর্তি ও তাঁর পরিবার। জানা গিয়েছে, জরিপকর্মীরা যখন বেঙ্গালুরুর সদাশিবনগরে মূর্তি দম্পতির বাসভবনে তথ্য সংগ্রহের জন্য পৌঁছন, তখন তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, জরিপে অংশ নিতে তাঁরা ইচ্ছুক নন। সুধা মূর্তি নিজের হাতে জরিপ ফর্মে একটি নোট লিখে দেন, যেখানে উল্লেখ করেন, ‘আমরা কোনও পশ্চাৎপদ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নই। অতএব এই সরকার পরিচালিত জরিপে অংশ নিচ্ছি না।’ এরপর তিনি ফর্মে স্বাক্ষর করে তা ফেরত দেন কর্মকর্তাদের হাতে।
পিছিয়ে পড়া শ্রেণি কমিশনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, এই জরিপ ‘ঐচ্ছিক’, কোনো নাগরিককে বাধ্য করা হচ্ছে না। কিন্তু মূর্তি দম্পতির মতো উচ্চপ্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী পরিবার যখন জরিপ থেকে সরে দাঁড়ান, তখন বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না—তা হয়ে ওঠে প্রতীকী অবস্থান। প্রশ্ন ওঠছে, পরিচয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং তথাকথিত ‘ব্যাকওয়ার্ড’ ট্যাগের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে। সরকারি সূত্রে খবর, মূর্তি দম্পতি মনে করেন, তাঁদের পরিবারের মতো সমাজের একটি শ্রেণি এ জরিপের আওতায় আসেন না। তাঁদের অংশগ্রহণ জরিপের উদ্দেশ্য পূরণে কোনও তাৎপর্য বহন করবে না। ফলে ‘ব্যক্তিগত কারণে’ তাঁরা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন। অন্য দিকে, কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি ডি.কে. শিবকুমার এবং তাঁর পরিবার এই জরিপে অংশ নিয়েছেন। যদিও, বাড়তি প্রশ্নোত্তরের জেরে তিনি খানিক বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা জরিপ করতে এত প্রশ্ন! এত সময় নিচ্ছেন কেন?’ আইনজীবীদের একাংশ আবার এই জাতি-জরিপের বিষয়বস্তু ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রবীণ আইনজীবী বি.ভি. আচার্যর মতে, তথ্যের অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
জানা যাচ্ছে, কর্নাটকে গত ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই জরিপ প্রক্রিয়া চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এ পর্যন্ত রাজ্যের মোট ১.৪৩ কোটি পরিবারের মধ্যে প্রায় ১.২২ কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৮৩ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জরিপে নিয়োজিত করায় স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। এরই মধ্যে নারায়ণ মূর্তি ও সুধা মূর্তির এহেন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে জনমানসে এক গম্ভীর বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। পরিচয়ের রাজনীতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে যখন রাজ্যব্যাপী পরিচিতি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে, তখন কর্পোরেট ও সামাজিক মহলের প্রতিষ্ঠিত দম্পতির এমন অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
❤ Support Us






