Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

বাংলা কবিতার উজ্জ্বল প্রতিনিধি রণজিৎ দাশকে ডি.লিট দেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলা কবিতার উজ্জ্বল প্রতিনিধি রণজিৎ দাশকে ডি.লিট দেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে এবার সম্মান সূচক ডি.লিট পাবেন বাংলা কবিতার প্রথম সারির কবি রণজিৎ দাশ। তাঁর সঙ্গে, একইভাবে সম্মানিত করা হবে শিক্ষাবিদ ফাদার থমাসকে। ডি.এসসি পাচ্ছেন সুপার কম্পিউটারের জনক বিজয় পাণ্ডুরং ভাটকর।

৬ বছর পর, ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব। মঙ্গলবার সেনেট বৈঠকে ডি.লিট ও ডি.এসসি সম্মানের জন্য এসব বিশিষ্টের নাম পেশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সি ভি আনন্দের অনুমোদন এলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ কথা জানিয়েছেন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ।

বাংলা কবিতার অন্যতম উজ্জ্বল ব্যতিক্রম কবি রণজিৎ দাশ। তাঁর সম্মানপ্রাপ্তির আগাম সংবাদ পেয়েই ঘনঘন ফোন আসতে থাকে সত্তর-উত্তীর্ণ কবির মোবাইলে।

রণজিৎ দাশের জন্ম বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কবিতা চর্চার আরম্ভ, ঈশান বাংলার কবির শহর শিলচরে, সত্তরের দশকে। বি.এ পাশ করে চলে আসেন কলকাতায় এবং তাঁর মননের, বিশেষ করে কবিতা চর্চার বহুমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে নাগরিকতার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দ্যুতি।

রণজিৎ দাশের কলকাতা আসার আগেই ‘দেশ’ পত্রিকায় সনাতন পাঠক [সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়] লিখেছিলেন, কব্জির জোর আছে ওর। যেমন আধুনিক, তেমনি আবহমান ঐতিহ্যের সারগ্রহণে সে অভ্যস্ত। সুনীল স্নেহ করতেন রণজিৎকে, শঙ্খ-শক্তির ভালোবাসাও ঋদ্ধ করেছে তাঁর কবিতার অভ্যাসকে। শাণিত নাগরিকতা বোধ, সৃষ্টির অতৃপ্তি সব সময় তাড়া করে তাঁর কবিতার নির্মাণকে। যে মাটিতে দাঁড়িয়ে ষাট-সত্তর দশক থেকে শুরু করে আমৃত্যু নিজের অথবা কবিতার মুখ দেখে গেছেন ব্রজেন্দ্রকুমার সিংহ, শক্তিপদ ব্রহ্মচারী, বিজিৎ কুমার ভট্টাচার্য এবং এখনো কবিতা যাপনে যাঁদের কোনো ক্লান্তি নেই, তাঁদের সংস্পর্শ ছুঁয়ে, সংস্পর্শ থেকে দূরে গিয়েও রণজিৎ এক দুর্দান্ত অশ্বারোহী। দেশভাগের মর্মান্তিকতা, জাতিসত্তার অহঙ্কার আর অঙ্গীকারকে স্পর্শ করে অব্যাহত, অক্লান্ত তাঁর কণ্ঠের গম্ভীর। শুধু কবিতায় নয়, গদ্যেও তিনি মর্মস্পর্শী। উপন্যাসে, প্রবন্ধেও তাঁর  তীর্যকতা সমতুল্য। রণজিৎ প্রধানত কবি, দ্বিতীয়ত বেপরোয়া গদ্যকার। এবং সংযমী এবং কখনো কখনো বিদ্রূপাত্মক তাঁর বাক্ ভঙ্গি। প্রকাশিত কবিতার বই ১২টি; প্রথম বই— আমাদের লাজুক কবিতা [১৯৭৭]। শেষ বই— অশ্রুর দেবতা [২০২০]। প্রবন্ধের বই: ১. খোঁপার ফুল বিষয়ক প্রবন্ধ। ২. কবিতার দ্বিমেরুবিশ্ব। ৩. ডিজিটালের শয়তান ও কবিতা। উপন্যাস : ১. বিয়োগ পর্ব। ২. শ্যামাপোকা।

রণজিৎ তাঁর নির্মাণ ও বিনির্মাণে, আত্মনির্মাণের ব্যাপ্তিতে যেমন প্রখর ঐতিহ্যপ্রবণ, তেমনি নাগরিকতার সপ্রতিভ প্রতিনিধি। এমন একজন কবিকে ডি.লিট সম্মান জানানোর প্রস্তাব পেশ করে, কবিতাকে প্রকারান্তরে সম্মানিত করল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!