- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৫, ২০২৬
যুদ্ধের আবহে স্তব্ধ হরমুজ, তেল সংকটে বিশ্ব ! ভারতীয় জলসীমার কাছে ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে হাজির রুশ নৌবহর
ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি। যুদ্ধের পঞ্চম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রবল সঙ্কটের মাঝেই ভারতের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে রাশিয়া। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ভারতের জলসীমার কাছাকাছি রাশিয়ার প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি নৌবহর অবস্থান করছে। প্রয়োজন হলে এ তেলের গন্তব্য বদলে ভারতমুখী করে দিতে রাজি মস্কো। সূত্রের দাবি, দিল্লি সম্মতি দিলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই তেল ভারতে পৌঁছে যেতে পারে।
এদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরান আগেই ঘোষণা করেছিল, চিন ও রাশিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশের জাহাজ এই পথে চলতে পারবে না। সেই হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করায় ইতিমধ্যেই ১০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই পরিবহণ হয়।
অন্যদিকে সংঘাত নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব তিনি খারিজ করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ‘আগে ইরানের সামরিক শক্তিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে, তারপর আলোচনা।’ পাল্টা সুর নরম করতে রাজি নয় তেহরানও। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, ইরান আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না এবং প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালাবে।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। যুদ্ধ শুরুর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার। ২ মার্চ তা বেড়ে প্রায় ৭১ ডলার হয়। আর বুধবার সেই দাম লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে ৮৩.৮৮ ডলার প্রতি ব্যারেল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ২০০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে দেশের রাজস্ব ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং টাকার স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় প্রণালীর দুই পাশে প্রায় ৭০০-র বেশি জাহাজ আটকে রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জাহাজেই তেল বোঝাই। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।
❤ Support Us






