Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ১৩, ২০২৬

বোলান-গাজন ঘিরে তিন জেলায় উন্মাদনা। দেখা মিলল ভয় জাগানিয়া পোড়ো বোলানের আসর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বোলান-গাজন ঘিরে তিন জেলায় উন্মাদনা। দেখা মিলল ভয় জাগানিয়া পোড়ো বোলানের আসর

আমরা ক-টি ভাই/ হাতে হাত রেখে মোরা শিবের গাজন গাই। / গাইছি বটে বোলান-গাজন / নেইকো খুশি আর / ভোট কাড়তে এসেছে যে এসআইআর। একেবারে সাম্প্রতিক অবস্থাকে তুলে ধরে বোলান হচ্ছিল কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুরে। ‘দাঁড়া বোলানে’র আসর একেবারে ভিড়ে ঠাসা। বোলান-গাজনে মাতোয়ারা ৩ জেলা, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি। লোকসংস্কৃতি গবেষক রণদেব মুখার্জি বলছিলেন, ‘দেবতার আবাহনে গাওয়া যে গান, তাই হল বোলান। এখানে দেবতা বলতে শিবকে বোঝানো হয়েছে।’ বোলান মূলত ৪ ধরনের। দাঁড়া বোলান, সখি বোলান, পালা বোলান ও পোড়ো বা শ্মশান বোলান। তবে শ্মশান বোলান খুবই ভয়াবহ। সেটাই দেখা গেল কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুর, মাসুন্দি, মৌগ্রাম, কাটোয়ার সুদপুর, মুর্শিদাবাদের এড়েরা-সহ বিভিন্ন এলাকায়।

এই বোলানের বৈশিষ্ট্য হল, বোলান গাওয়ার জায়গাটিকে শ্মশানের চেহারা দেওয়া। মৃত মানুষের খুলিকে মাঝে রেখে শ্মশান-দৃশ্য রচনা করা হয়। শিব, কালি, শকুনি, কুকুর, ডাকিনী, যোগিনীর ভয়ঙ্কর সাজে সেজে নানারকম অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাওনার দল শিবের বন্দনা গান করেন, ‘এসো বাবা মহাদেব, ভোলা মহেশ্বর / শ্মশানে-মশানে এসো বাবা কৃপাকর—’। কেউ শিঙা ফোঁকেন। কেউ ধুনুচিতে ধুনো ছিটিয়ে আগুন জ্বালান। সেইসঙ্গে ঢাক-কাঁসির সঙ্গতে রাতের পরিবেশ ছমছমে হয়ে ওঠে। গান করতে বেরনোর আগে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের কাছে শ্মশানের স্বাভাবিক চরিত্রগুলির মতো মুখে রং করান।

পোড়ো বোলানের শিল্পী সনৎ দাস, যতীন রাজোয়াররা বলছিলেন, ‘পোড়ো বোলান বহু পুরনো দিনের লোকগানের রীতি। এই গান এখন আর দেখা যায় না। হাতেগোনা এলাকায় টিকে রয়েছে। কারণ এই গান করতে সাধনা লাগে। তাছাড়া এই গানের প্রধান অনুষঙ্গ মড়ার খুলি পাওয়া ইদানীং দুষ্কর। পুলিশের কড়াকড়ি রয়েছে।’ নামমাত্র খরচে গাইয়েদের মুখ রাঙানোর কাজ করা মৃৎশিল্পী বাপী পাল বলছিলেন, ‘তিন পুরুষ ধরে এই কাজ করছি। মুখে রং চড়ানোর পর ওদের শরীরে যে কী ভর করে বলা কঠিন।’ শ্মশান  বোলানের আসরে শিল্পীদের দেখলে বাপীর কথাই সত্যি মনে হবে। যেভাবে শিঙা ফুঁকতে ফুঁকতে রে রে করে বোলানের দল আসরে ভয় জাগানো আবহ তৈরি করে তাতে শিশুরা আতঙ্কে মায়ের কোলে মুখ গুঁজে দেয়। বোলানের দলের সদস্যরা সমস্বরে গেয়ে ওঠেন, শ্মশানে রচনা করি মহাদেবের ঘর / আশিস দিও বল দিও ভোলা দিগম্বর / ওগো ভোলা দিগম্বর-


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!