- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ২৪, ২০২৬
কমিশনের চিঠিতে পদ্ম ছাপ ! কড়া সমালোচনা মমতার। মধ্যরাতে ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও ক্ষোভ
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছে তৃণমূল। মঙ্গলবার সে অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। কমিশনের একটি পুরনো চিঠিতে ভারতীয় জনতা পার্টি-র প্রতীক-সহ স্ট্যাম্প থাকার ঘটনাকে সামনে এনে সরাসরি কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, ‘ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে।’
উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে রওনা হওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাতে একটি সংবাদপত্রের কাটিং তুলে ধরেন মমতা। তাতে প্রকাশিত ওই চিঠির প্রতিলিপি দেখিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে কী করে একটি রাজনৈতিক দলের স্ট্যাম্প থাকে?’ এর পরেই কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ, ‘পিছন থেকে কেন? সামনাসামনি খেলুন না।’
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের একটি চিঠি ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। সোমবার তা প্রকাশ্যে আসে। ওই নথিতে বিজেপির প্রতীক-সহ সিলমোহর থাকার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। যদিও কমিশনের তরফে একে ‘ক্লারিক্যাল মিসটেক’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু সে যুক্তি মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা কি নিছক ভুল, না কি এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে?’ এ ঘটনাকে হাতিয়ার করেই বিরোধী দলগুলির কাছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন জানান তৃণমূলনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘কোনো রং না দেখে, সব বিরোধী শক্তিকে একজোট হয়ে এই একপেশে আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।’ একই সঙ্গে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁর অভিযোগ, ‘কার কথায় কমিশন চলছে, তা এখন স্পষ্ট।’

চিঠি বিতর্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও সরব হন মমতা। সোমবার গভীর রাতে তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর মন্তব্য, ‘মাঝরাতে তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন কী? এত ভয় কিসের?’ তাঁর অভিযোগ, এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং একতরফা ভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তিনি সুপ্রিম কোর্ট-এ মামলা করেছিলেন বলেই কিছু নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নচেৎ আরও বহু ভোটার বঞ্চিত হতেন। তিনি দাবি করেছেন, যেটুকু নাম উঠেছে, সেটাও আইনি লড়াইয়ের ফল।
এদিন প্রশাসনিক বদলি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ তোলেন, অনৈতিক ভাবে একাধিক রিটার্নিং অফিসারকে সরানো হয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দিতেই কিছু আধিকারিককে এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত করেন। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে ফেললেন মমতা। তাঁর হুঁশিয়ারি, এ ঘটনাই আগামী দিনে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
❤ Support Us






