- দে । শ
- এপ্রিল ৩, ২০২৬
হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ঘন মেঘের চাদরে ঢাকা করাচি থেকে কানপুর । সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝায় প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি
আরব সাগর-সংলগ্ন উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল মেঘপুঞ্জ, যা জম্মু-কাশ্মীর থেকে শুরু করে হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা হয়ে রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে মেঘের ছুঁয়েছে পাকিস্তানের আকাশকেও। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর–এর প্রকাশিত ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বাড়ছে উদ্বেগ ও প্রস্তুতি।
বিশাল এই মেঘ-চাদরের কেন্দ্রে রয়েছে সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে মধ্য এশিয়ার পথ ধরে এগিয়ে আসা নিয়মিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া ব্যবস্থা। তবে এবারের ঘনীভূতভাব তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় হওয়ায় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে প্রবল বৃষ্টি, ঝড় এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ছবিতে যে মেঘের চাদর দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ঘন নয়, বহুস্তরীয়— উপরের স্তরে পাতলা ‘সিরাস’ মেঘ, মাঝখানে সঙ্কুচিত ‘কিউমুলাস’, আর নীচের দিকে ভারী আর্দ্রতার স্তর মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক জটিল আবহাওয়া কাঠামো। এ ধরনের মেঘের বিন্যাস সাধারণত বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা এবং প্রবল আর্দ্রতার প্রবাহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, যা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেঘপুঞ্জ ধীরে ধীরে পূর্বদিকে সরে যাবে, ফলে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। প্রথম ধাক্কায় জম্মু ও কাশ্মীর আর হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রভাব পড়বে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ে প্রবল বর্ষণ নামতে পারে, যার সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার দাপট যুক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, এ ধরনের শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা যখন স্থানীয় আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে সংঘর্ষে আসে, তখন আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। সে কারণে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষত হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চল এবং সংলগ্ন সমতল এলাকাগুলিতে তাপমাত্রা হঠাৎ করে দ্রুত নামতে পারে, যা কৃষিক্ষেত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মাঠে থাকা পাকা বা আধাপাকা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, কারণ স্বল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টিপাত হলে জল জমে যাওয়া, যানজট এবং নিকাশি ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ঝঞ্ঝার একটি স্বস্তিদায়ক দিকও রয়েছে। উত্তর ভারতের বহু অঞ্চলে যে অস্বস্তিকর গরম এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, বৃষ্টির ফলে তার সাময়িক অবসান ঘটবে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা ও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে। তবে, স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। কারণ ঝঞ্ঝা সরে যাওয়ার পর আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আবহাওয়া দফতর। মেঘের গতিপথ, ঘনত্ব এবং বিস্তার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতি আরও গতিশীল ও অনিশ্চিত করে তুলছে। তাই প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কবার্তা জারি করা হচ্ছে।
❤ Support Us






