Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • এপ্রিল ১৭, ২০২৬

বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে ড্র ইস্টবেঙ্গলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে ড্র ইস্টবেঙ্গলের

ম্যাচের পরতে পরতে নাটক। কার্ডের ছড়াছড়ি, ৬ গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। তিন–তিনবার পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। ৭০ মিনিট ১০ জনে খেলেও শক্তিশালী বেঙ্গালুরু এফসি–কে আটকে দিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচে ফল ৩–৩। ম্যাচের একেবারে অন্তিমলগ্নে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে রেখে দিলেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা অ্যান্টন সোজবার্গ। তবে কোনও ফুটবলার নন, ম্যাচের ‘‌নায়ক’ পুদুচেরির রেফারি অশ্বিন।‌

টানা তৃতীয় জয়ের লক্ষ্যে এদিন ঘরের মাঠে দারুণ শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম মিনিটেই কর্নার আদায় করে নেয়। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে বেঙ্গালুরু এফসি–কে এই সময় ব্যতিব্যস্ত করে রাখছিলেন পিভি বিষ্ণু, এডমুন্ডরা। কিন্তু খেলার গতির বিরুদ্ধে ১২ মিনিটে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে উড়ে আসা লম্বা পাস ধরে বিপিন সিংকে পরাস্ত করে ডানপায়ে উঁচু শট নেন আশিক কুরুনিয়ান। গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে থাকা লাল–হলুদ গোলকিপার প্রভসুখন গিল ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। বল তাঁর আঙুল ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

পিছিয়ে পড়ার ৩ মিনিট পরেই সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। বাঁদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন পিভি বিষ্ণু। সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েও ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ইউসুফ ইজেজারি। অবশেষে আক্রমণে চাপ বজায় রেখে ম্যাচের ২১ মিনিটে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। কর্নার থেকে মিগুয়েল বল ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। ভিড়ের মধ্যে কেভিন সিবিলে লাফালেও বলের নাগাল পাননি। লুজ বল চলে যায় আনোয়ার আলির কাছে। দুরন্ত বাইসাইকেল ভলিতে গোল করে সমতা ফেরান আনোয়ার।

সমতা ফেরার ৩ মিনিট পরই বড় ধাক্কা ইস্টবেঙ্গলের। আশিক কুরুনিয়ানের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন। দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সেই সময় দুজনের মাঝে চলে আসেন বেঙ্গালুরুর সহকারী কোচ। মিগুয়েল তাঁর গলা চেপে ধরে সরাতে যান। চতুর্ত রেফারি তাঁকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বার করে দেন। ১০ জন হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। সংখ্যাধিক্যে বেশি হওয়ায় ইস্টবেঙ্গলের ওপর আরও চাপ বাড়ায় বেঙ্গালুরু। ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে পরপর দুটি সুযোগও তৈরি করে। তবে কাজে লাগাতে পারেনি। অবশেষে ৩৯ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। গোল করেন সুরেশ সিং।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ৫৫ মিনিটে সল ক্রেসপো বেঙ্গালুরুর গোল লক্ষ্য করে শট নেন। বল চিংলেনসানার পায়ে লেগে আবার তাঁর কাছে ফিরে আসে। এবার গোল করতে ভুল করেননি সল। ৬৮ মিনিটে ইউসুফকে তুলে অ্যান্টন সোর্জবার্গকে মাঠে নামান লালহলুদ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। এর ঠিক তিন মিনিট পরেই রায়ান গোল করে আবার বেঙ্গালুরুকে এগিয়ে দেন। লালহলুদ সমর্থকরা নিশ্চিত পরাজয় জেনে যখন হতাশায় স্টেডিয়াম ছাড়ার উপক্রম করছেন। তখনই জ্বলে উঠলেন অ্যান্টন। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে দুরন্ত গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে রেখে দিলেন। ৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রইল ইস্টবেঙ্গল। দুটি লাল কার্ড, অসংখ্য হলুদ কার্ড। মিগুয়েল ছাড়াও লালকার্ড দেখতে হল ইস্টবেঙ্গলের এক কোচিং স্টাফকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!