- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৪, ২০২৬
বাংলার ভোটকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ২০ লক্ষ ডলারের বাজি! ভারতে নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মগুলোতে চলছে ট্রেডিং
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা ৪ মে। রাজ্যে এই মুহূর্তে জল্পনা-কল্পনা, উত্তেজনা চরমে। তবে বাংলার সীমানা ছাড়িয়েও বিশ্ববাজারে ঢুকে পড়েছে ভোটবাজির রমরমা খেলা। আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেট থেকে একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে এসেছে।
পলিমার্কেট একটি মার্কিনি প্ল্যাটফর্মে, যেখানে বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষ আসল টাকা বিনিয়োগ করে বাজি ধরে, এই সংস্থায় ‘West Bengal Legislative Assembly Election Winner’ মার্কেটে বাজি ধরে ২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি লেনদেন হয়েছে। এটি বর্তমানে ভারতের কোননো রাজ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ট্রেড হওয়া মার্কেট। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডাররা বিজেপিকে ৫২% জয়ের সম্ভাবনা দিচ্ছেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস-এর জয়ের সম্ভাবনা ৪৭% দিচ্ছেন। বামেদের সম্ভাবনা রয়েছে ১%-এরও কম। এক্স হ্যান্ডেলে ‘Save Invest Repeat’ নামে একটি ফাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট এই তথ্য শেয়ার করেছে। তারা জানিয়েছে, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি ট্রেডিং হয়েছে। তুলনায় তামিলনাড়ুর নির্বাচনে ট্রেডিং ভলিউম মাত্র প্রায় ৩৭০,০০০ ডলার।
প্রেডিকশন মার্কেট সাধারণ মতামত জরিপ বা এক্সিট পোল থেকে আলাদা। এখানে মানুষ তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী বাস্তব টাকা বিনিয়োগ করে। যেমন, যদি বিজেপির শেয়ারের দাম ৫৩.৫ স্থির হয়, তাহলে সেটি বোঝায় যে বাজারের মতে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৫%। সমর্থকদের মতে, যেহেতু এখানে আসল টাকা ঝুঁকিতে থাকে, তাই এই মার্কেটগুলি অনেক সময় প্রচলিত জরিপের তুলনায় বেশি সঠিক হতে পারে। পলিমার্কেটের দাবি, তারা ফল ঘোষণার এক মাস আগেই ৯৪%-এর বেশি ক্ষেত্রে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতে এই ধরনের প্রেডিকশন মার্কেট অবৈধ। ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘অনলাইন গেমিংয়ের প্রচার ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫’ অনুযায়ী, বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজি ধরার প্ল্যাটফর্ম ভারতে নিষিদ্ধ। ফলে, পলিমার্কেটে-এ পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে যে বিপুল লেনদেন দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ভারতের বাইরের ব্যবহারকারীদের দ্বারা হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো অঞ্চলে, যেখানে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম আইনি বা নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য দুই দফায় ভোটের ঘোষণা করে। এই নির্বাচন মূলত বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সরাসরি লড়াই। আন্তর্জাতিক ট্রেডাররা যারা বাংলার রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, তারা কতটা সঠিকভাবে ভোটারদের মনোভাব বুঝতে পেরেছেন, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে ফল ঘোষণার দিন। তাই আর একটু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
❤ Support Us








