Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১, ২০২৬

স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ মুখ্যমন্ত্রীর, পাল্টা অভিযোগ পদ্মশিবিরের।  নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করল কমিশন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ মুখ্যমন্ত্রীর, পাল্টা অভিযোগ পদ্মশিবিরের।  নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করল কমিশন

বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুল, বালিগঞ্জ রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্ট্রংরুমের সামনে প্রবল অশান্তি শুরু হয়। রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের স্ট্রংরুমে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে পৌঁছলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভবানীপুরের ইভিএম এই স্ট্রংরুমে রাখা আছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। পুলিশ এখন আর তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। স্ট্রংরুমের ভেতর পোস্টাল ব্যালট এদিক ওদিক হচ্ছে। গত রাতে মুখ্যমন্ত্রী রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের স্ট্রংরুমে থাকেন। তার পর তৃণমূল কর্মীরা ওই স্ট্রংরুম পাহারায় সারারাত থাকেন। পুলিশ মাইকে বলতে থাকে জায়গা খালি করতে, ঘোষণা করতে থাকে এলাকায় ১৬৩ বিএনএস জারি আছে। এদিকে স্ট্রংরুমের ভেতরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর নাম না উল্লেখ করে বলেন, ‘কোনো রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ করতে পারেননি’। শুক্রবার সকালে এই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ইভিএমে কারচুপি হচ্ছে বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়। বহিরাগতরা ওই স্ট্রংরুমে ঢুকেছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা। মুহূর্তে এই দুই তৃণমূল প্রার্থী ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের সামনে পৌঁছে ধর্নায় বসেন। একটি ভিডিও তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট করে পোস্টাল ব্যালট এদিক ওদিক করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উত্তর কলকাতার ডিইও শ্রেয়া পাণ্ডে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট সর্টিং করার কাজ হচ্ছিল। সব রাজনৈতিক দলকে ইমেল করা হয়েছিল সকাল বেলা। কেউ না এলে কি আমাদের কাজ থমকে থাকবে?’ রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, ‘স্ট্রংরুম সুরক্ষিত আছে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ও সিসিটিভিতে নজরদারি চলছে। নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই।’ নির্বাচন কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় স্ট্রংরুমের যে ভিডিও নিয়ে শোরগোল পড়েছে সেই ভিডিওটা ফেক।

এদিকে শুক্রবার সকালেই গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রয়েছে ব্যারিকেড। কিউআর কোড সম্বলিত কার্ড দেওয়া হচ্ছে কাউন্টিং এজেন্টদের। এই কার্ড ছাড়া কেউ গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় রাখা হয়েছে স্ট্রংরুমে। রয়েছে সিসিটিভির নজরদারি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ৪ মে, ভোট গণনার সময় যাতে কোনও রকম অশান্তি যাতে না হয় তার জন্য সবরকম ভাবে স্ট্রংরুমগুলোকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে অভিযোগ তুলে তৃণমূল প্রার্থী কুনাল ঘোষ, শশী পাঁজা পৌঁছে যান। পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের স্ট্রংরুমে গত কাল রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম প্রবেশ করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাস স্ট্রংরুমে পৌঁছে মমতা ও ফিরহাদ ভেতরে যেখানে বসে ছিলেন তার উল্টো দিকের সোফায় বসে পড়েন। সূর্যনীল শুক্রবার সকালে জানান, ‘আমি সারারাত স্ট্রংরুমে ছিলাম। কেউ কোনো সমস্যা করতে পারেনি। স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।’

তবে বৃহস্পতিবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের স্ট্রংরুমে পৌঁছোবার পর তৃণমূলের একটি গাড়ি সেখানে এসে পৌঁছয়। ওই গাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন চিত্রায়িত ছিল। এই গাড়িটি ঘিরে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখতে থাকেন। এরই মধ্যে এক যুবক তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। তৃণমূলের পক্ষে দাবি করা হয় ওই যুবক বহিরাগত। গুজরাটের বাসিন্দা। তবে ওই যুবক জানান, তিনি ভিনরাজ্যে বাসিন্দা, ভবানীপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তিনি জানেন, তাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ওই যুবক বলেন, ‘আমি ভিন্ন রাজ্যের হলেও ভারতের নাগরিক। তাই আমি দেশের যে কোনও রাজ্যে যেতেই পারি।’ এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুম থেকে বার হয়ে বলেন, ‘এটা আমার এলাকা। আমি চাইলে দশ হাজার মানুষ জোর করে দিতে পারি।’

এদিকে শুধু কলকাতার স্ট্রংরুমে নয়, এগরার স্ট্রংরুমেও অশান্তি শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ এগরার আইসি-র বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও বার্তায় স্ট্রংরুম পাহারা দিতে বলার পরই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন স্ট্রংরুমে অশান্তি শুরু করেছে। এদিকে তৃণমূল দাবি করছে, স্ট্রংরুমে মানুষের ভোট দেওয়া ইভিএম রয়েছে, মানুষের রায়কে সুরক্ষিত করতে তৃণমূল স্ট্রংরুম পাহারা দেবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!