- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ১৮, ২০২৬
মন্ত্রিসভা বৈঠকে ডিএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা, নজরে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠক সোমবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা বা ডিএ-র বিষয়টি। ফলে আজ সোমবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
গত সোমবার নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় বৈঠকে ডিএ এবং বেতন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়গুলি আলোচনায় আসবে। এরপর থেকেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে— নতুন সরকার কি ডিএ বৃদ্ধি বা বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে কোনও বড় ঘোষণা করতে চলেছে?
এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেল করে ডিএ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ‘বেঙ্গল টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠনের দাবি, বর্তমানে রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পেলেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় এখনও প্রায় ৪২ শতাংশ কম ডিএ পাচ্ছেন। তাই নতুন সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, অন্তত ১২ শতাংশ ডিএ বাড়িয়ে সেটিকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হোক।
ডিএ নিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের আন্দোলন দীর্ঘ দিনের। পূর্বতন সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরকারি কর্মীরা প্রথমে হাই কোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে ডিএ আটকে রেখেছিল। পরবর্তীতে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট— দুই আদালতই কর্মীদের পক্ষে রায় দেয়।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র মধ্যে ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি বাকি অর্থ কী ভাবে এবং কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির অর্থ মার্চ মাসের মধ্যেই দেওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে।
এর মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, রোপা-২০০৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মীরা ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে বকেয়া ডিএ পেতে শুরু করবেন। যদিও সরকারি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে সেই অর্থ পৌঁছায়নি। কেউ কেউ দাবি করেছেন, ডিএ-র একটি অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) অ্যাকাউন্টে জমা করার কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত সেই টাকাও জমা পড়েনি।
এই পরিস্থিতিতে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর ডিএ বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধ কিংবা বেতন কমিশন নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় কি না, এখন সেই দিকেই নজর গোটা রাজ্যের।
❤ Support Us







