Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২২, ২০২৬

দিল্লিতে শুভেন্দুর ম্যারাথন বৈঠক । মোদি-শাহের সঙ্গে আলোচনা, বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজে জোর

রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিতে শুভেন্দুর ম্যারাথন বৈঠক । মোদি-শাহের সঙ্গে আলোচনা, বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজে জোর

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম দিল্লি সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করেই তিনি রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে দিল্লিতে পৌঁছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে।

শুক্রবার রাজধানীতে মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই বৈঠককে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। বরং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— দুই দিক থেকেই এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিপুল ঋণের চাপে কার্যত জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের আয়ের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে সুদ ও ঋণ শোধ করতে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়া উন্নয়নের গতি বজায় রাখা কঠিন। সেই কারণেই দিল্লিতে গিয়ে বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্প বিনিয়োগে বিশেষ সহায়তার দাবি তুলতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিশেষ করে “ডবল ইঞ্জিন সরকার”-এর সুবিধা কীভাবে বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই রূপরেখা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দলগতভাবে কী করব সেটা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলব না। তবে এটুকু বলতে পারি, আমাদের সরকার ঘোষণার সরকার হবে না, খেলা-মেলার সরকারও হবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীকের এই মন্তব্য থেকেই কেন্দ্রের বড় আর্থিক সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সম্ভাবনার আভাস মিলছে।

শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, উত্তরবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের উন্নয়ন নিয়েও ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। অসমে চালু থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাংলাতেও কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়ে শমীক বলেন, “চা-বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর যে কাজ আগের সরকার করেনি, সেই কাজ এবার হবে।”

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক এখন শুধুমাত্র সৌজন্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং “ডবল ইঞ্জিন” সরকারের রাজনৈতিক বার্তা— এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!