Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৯, ২০২৬

ভোট পরবর্তী হিংসায় ‘আক্রান্ত’ তৃণমূল কর্মীদের সহায়তা, শনিবার থেকে নতুন কর্মসূচি অভিষেকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোট পরবর্তী হিংসায় ‘আক্রান্ত’ তৃণমূল কর্মীদের সহায়তা, শনিবার থেকে নতুন কর্মসূচি অভিষেকের

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর অবশেষে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় হচ্ছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী সময় এই প্রথম তিনি সরাসরি মাঠে নামছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভোটের পর বিভিন্ন জায়গায় ‘আক্রান্ত’ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতেই শনিবার থেকে তাঁর এই কর্মসূচির সূচনা হচ্ছে।

প্রথম দিনেই অভিষেক যাবেন সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকায়। সোনারপুর দক্ষিণে তিনি দেখা করবেন আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের সঙ্গে। পরে বেলেঘাটায় গিয়ে আর এক আক্রান্ত কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের বাড়িতে যাবেন তিনি। নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলীয় কর্মীরা ঘরছাড়া হওয়ার পর কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নামছেন না, কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না, তা নিয়ে প্রথম প্রশ্ন তুলেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অভিষেকের প্রথম কর্মসূচির তালিকায় বেলেঘাটায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে অভিষেককে খুব বেশি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। যদিও কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দফতরে দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলিতে তিনি নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন অভিষেক। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসই পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। তবে ফলতা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে তিনি প্রচারে যাননি। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। পরে সেই কেন্দ্রে বিজেপির বিপুল জয়ের পর প্রশ্নের মুখে পড়ে অভিষেকের তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরেই অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক কেন সরাসরি রাস্তায় নামছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলের একাংশের নেতা। প্রকাশ্যে এই নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তারপর বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলর তারক সিং, তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দেব সোজা অভিষেকের গ্রহন্যয্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরাজয়ের দায় তাঁর ওপরই চাপিয়েছেন। তবে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে, ভোট-পরবর্তী প্রথম কর্মসূচিতেই সেই বেলেঘাটাকে বেছে নিয়েছেন অভিষেক।

দলের হারের জন্য তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারক সংস্থা আই-প্যাককে দায়ী করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শান্তনু সেন-সহ একাধিক নেতা প্রকাশ্যে অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ‘বেসুরো’ নেতাদের মধ্যে অনেকেই এতদিন ‘অভিষেক-ঘনিষ্ঠ’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ফলে অভিষেক তাঁর এই সফর থেকে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেন কি না, সে দিকেও নজর রয়েছে।

এছাড়াও ফলতা উপনির্বাচনে তৃণমূলের চতুর্থ স্থানে নেমে আসা নিয়ে দলের অন্দরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুধু বিরোধীরাই নয়, দলের ভেতর থেকেও অনেক নেতা প্রকাশ্যে এই মডেল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এর মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়েও বড় পরিবর্তন হয়েছে। আগে তিনি জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। তবে নতুন রাজ্য সরকার জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ম মেনেই জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী, একজন সাংসদ হিসেবে যতটুকু নিরাপত্তা প্রাপ্য, এখন থেকে অভিষেক সেটুকুই পাবেন। নিরাপত্তা কমে যাওয়ার পর শনিবারই প্রথম কালীঘাটের বাইরে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন তিনি।

অভিষেকের এই সফর নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপিও। দলের মুখপাত্র প্রণয় রায় বলেন, “আমরা সরকারে আসার পর কোনও হিংসায় মদত দিইনি। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়নি। তবুও সাধারণ মানুষ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়েছেন। অভিষেকের বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে। তাঁর এই সফরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় অভিষেককেই নিতে হবে।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!