- দিন-দুনিয়া বি। দে । শ
- জুন ১, ২০২৬
দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে নেপালের শাসকদলের প্রতিনিধিদল, কূটনৈতিক টানাপড়েনের আবহে বাড়ছে রাজনৈতিক যোগাযোগ
ভারত-নেপাল সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েন এবং কূটনৈতিক অস্বস্তির আবহে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত। নেপালের শাসক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-র ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার ভারত সফরে আসছেন। দলের সভাপতি রবি লামিছানের নেতৃত্বে আসা ওই প্রতিনিধিদল বিজেপির আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে পদ্মশিবিরের কেন্দ্রীয় সদর দফতর পরিদর্শন করবে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যে রাজনৈতিক স্তরে যোগাযোগ জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এ সফরকে।
বিজেপির তরফে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের বিশেষ আমন্ত্রণে ভারত সফরে আসছেন আরএসপি-র প্রথমসারির নেতা রবি লামিছানে। সফরকালে বিজেপির সদর দফতরে নিতিন নবীন ও দলের অন্যান্য প্রবীণ ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। দুই দেশের শাসকদলগুলির মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় ও সাংগঠনিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করাই এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দাবি বিজেপির।
এ সফরের তাৎপর্য বেড়েছে আরও একটি বিশেষ কারণে। কয়েক দিন আগেই ভারতীয় বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রির নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর বাতিল হয়ে যায়। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, গত ১২ মে নেপাল সফরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা না মেলায় শেষ পর্যন্ত ওই সফর স্থগিত করা হয়। এ ঘটনার পরপরই নেপালের শাসকদলের প্রতিনিধিদলের দিল্লি সফরকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বরং তাঁদের মতে, সরকারি কূটনৈতিক স্তরে যে যোগাযোগে কিছুটা শৈথিল্য দেখা দিয়েছে, তা রাজনৈতিক স্তরে পূরণ করার চেষ্টা করছে দু–দেশই।
বিজেপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ সফরের লক্ষ্য আরএসপি ও বিজেপির মধ্যে দলগত স্তরে যোগাযোগের সূচনা করা। পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং জনমুখী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা।’ বিজেপি নেতৃত্বের আশা, ভবিষ্যতে দু–দলের মধ্যে আরও গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনার পথ খুলে যাবে। আরএসপি-র তরফেও সফর নিয়ে আলাদা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে অযোধ্যা যাবেন রবি লামিছানে। নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে দ্রুত উত্থান ঘটানো এই নেতা গত কয়েক বছরে দেশের তরুণ ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব তৈরি করেছেন। প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আরএসপি-র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রতিনিধি সভার সদস্য বিপিন কুমার আচার্য, দলের সচিবালয় সদস্য তথা প্রতিনিধি সভার সদস্য দীপক বোহরা, নিকিতা পাউডেল এবং প্রদীপ আচার্য।
সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের একটি মন্তব্য দু–দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। তিনি দাবি করেছিলেন, নেপাল ভারতের কিছু ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে। নেপালের কোনো শীর্ষ সরকারি নেতার মুখে এ ধরনের মন্তব্য অতীতে শোনা যায়নি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে মন্তব্যে জেরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিঘাত নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভারত-নেপাল রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিজেপি এবং নেপালের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যোগাযোগের ইতিহাস নতুন নয়। ২০২২ সালে তৎকালীন নেপালি প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা প্রথম কর্মরত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর পরিদর্শন করেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তৎকালীন বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডার। একই বছরের পরে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’-ও বিজেপির সদর দফতরে যান এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্বস্তি, সীমান্ত-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক বার্তার আবহে রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের এই দিল্লি সফরকে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে দুই দেশের রাজনৈতিক মহল।
❤ Support Us





