Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ১, ২০২৬

তাকিয়ে আছে বিশ্ব ! নতুন সরকারের শুরুতেই সুলক্ষণের ইঙ্গিত

প্রদীপ দত্তরায়
তাকিয়ে আছে বিশ্ব ! নতুন সরকারের শুরুতেই সুলক্ষণের ইঙ্গিত

এককালে ভারতের শিল্প প্রধান অঞ্চল ছিল বাংলা। এখানকার কলকারখানায় উৎপাদিত সামগ্রী সমগ্র ভারতে, দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার নানা এলাকায় বাজারজাত হতো। ব্রিটিশ আমলের গোড়ার দিকে দেশের রাজধানী ছিল কলকাতা। তাই এর আশপাশ অঞ্চলে শিল্প গড়ে তুলেছিল ব্রিটিশ বণিকরা। কলকারখানায় কাজ করার জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে জড় হতো কলকাতা সংলগ্ন এলাকায়। কলকাতা হয়ে উঠেছিল মহানগরী।  স্বাধীনতার পর একদশক এ অবস্থা থাকলেও, পরে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের অনীহা বাড়তে থাকে। কেন্দ্রের নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলার নেতৃত্বের বিরোধ ঘটতে থাকলে বাংলা মানুষের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ে।

কংগ্রেস সরকারের পতনের পর বাংলায় যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়। কেন্দ্রের অমনোযোগী মনোভাবের কারণে শিল্পের উপর অশুভ ছায়া পড়তে শুরু করে। কেন্দ্রের উদ্যোগে অন্যান্য রাজ্যে শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলা হলেও, বাংলার শিল্প পরিকাঠামোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় কেন্দ্রীয় শাসক ও বাণিজ্য মহল। শিল্প সমৃদ্ধ একটি রাজ্য ক্রমেই উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে পড়ে, বেকার সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে। কেন্দ্রের বঞ্চনা আর বৈমাতৃসুলভ দৃষ্টিভঙ্গিকে হাতিয়ার করেই কংগ্রেস জমানার অবসান ঘটিয়ে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। ৩৪ বছরের বামফ্রন্টের শাসনকালে শিল্প আরও বেশি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনধর্মঘটকলকারখানা মালিকদের কারখানা সচল রাখার ক্ষেত্রে বহু রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শিল্প সহায়ক নীতিতে বামপন্থার বিশ্বাসের অভাব কলকারখানা মালিকদের সামনে বিকল্প ভাবনার পথ খুলে দেয়। সরকারি ও বেসরকারি কারখানাগুলো ধুঁকতে থাকে। শুধুমাত্র শ্রমিক স্বার্থের দিকে নজর দিয়ে গোটা শিল্প পরিবেশকে নষ্ট করে দেওয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় চট শিল্প। বাংলা থেকে গুজরাটে পাড়ি দেয় গনা এবং বস্ত্রশিল্প। একের পর এক কাপড় মিল বন্ধ হয় এবং গুজরাটে গড়ে ওঠে কাপড়ের মিল।


কৃষি জমি রক্ষার নামে এই আন্দোলন যে আসলে শিল্প বিমুখ ছিল এবং ভুল ছিল এটা এখন প্রমাণ হচ্ছে। নতুন সরকার শিল্পের মরা গাঙে কতটা প্রবল স্রোত তৈরি করতে সক্ষম হবে, আদৌ বঙ্গোপসাগরে ঢেউ তুলতে পারবে কি না, এক্ষুনি নেতিবাচক প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার আইনের সুশাসন গড়ে তোলবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি লেখাপড়া করা, বুদ্ধিমান মানুষ। তাঁরও অঙ্গীকার, বাংলার সামগ্রিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে হবে


ওষুধ শিল্প, অন্যান্য রাজ্যে শ্রমিক সমস্যা নেই বলেই গড়ে ওঠে এবং বাংলার ওষুধ শিল্প ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। বাম জমানায় সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তুমুল আন্দোলন করে ই শিল্প সম্ভাবনাকে অংকুরেই বিনাশ করে দেওয়া হয়। কৃষি জমি রক্ষার নামে এই আন্দোলন যে আসলে শিল্প বিমুখ ছিল এবং ভুল ছিল এটা এখন প্রমাণ হচ্ছে। নতুন সরকার শিল্পের মরা গাঙে কতটা প্রবল স্রোত তৈরি করতে সক্ষম হবে, আদৌ বঙ্গোপসাগরে ঢেউ তুলতে পারবে কি না, এক্ষুনি নেতিবাচক প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। অপেক্ষা করতে হবে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার আইনের সুশাসন গড়ে তোলবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি লেখাপড়া করা, বুদ্ধিমান মানুষ। তাঁরও অঙ্গীকার, বাংলার সামগ্রিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে হবে। দেশভাগের পর, এই প্রথম গণদেবতার ইচ্ছায় অন্যরকম সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রী নির্বাচনে প্রতিটি অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়েছে শাসকের সুচিন্তিত অভিপ্রায়। বাধ্যবাধকতা রয়েছে, রয়েছে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্কের পুর্নবিন্যাসের বিষয়-আশয়। কেন্দ্র-রাজ্য হাতে হাত রেখে, সমন্বয়ের বন্ধন গড়ে তুললে বহু অসম্ভব দ্রুত সম্ভব হয়ে উঠতে পারে। নতুন সরকারের শুরুতেই সুলক্ষণের সুর্যোদয় দৃশ্যমান। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন সূর্যালোক, অস্তাচলও বিলিয়ে দেবে সুবিচার আর সমকল্যাণের সংরাগ।

মতামত লেখকের নিজস্ব।

♦–♦•♦–♦

লেখক : গুয়াহাটি উচ্চ-আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!