- দে । শ
- জুন ৫, ২০২৬
কলকাতা পুরসভার দায়িত্বে অব্যহতি ফিরহাদের
ছোট লালবাড়ি তৃণমূলের হাতছাড়া। মেয়রের পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। পদত্যাগের কারণ হিসেবে বললেন, এই পরিস্থিতিতে কাজ চালানো সম্ভব নয়। চেয়ারের মর্যাদা রাখতে পারছি না, তাই পদত্যাগ করলাম।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ফিরহাদ । তবে তাতে মমতা সম্মত না হওয়ায় ফিরহাদ থমকে ছিলেন । তবে গত বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বৈঠকের পরে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়ে দেন ফিরহাদের মেয়র পদ থেকে সম্মানজনক ভাবে সরে যাওয়ার ইচ্ছেতে সম্মতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে ও চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফার চিঠি দিয়ে দিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
শোভন চট্টোপাধ্যায় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করেন ২২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে। তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার মাত্র দুই দিন পরে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
তারপর ফিরহাদ হাকিম প্রথমবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর । ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর কলকাতা পুরসভা বা কেএমসি-র মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ফিরহাদ হাকিম শপথ গ্রহণ করেন।
এদিন কলকাতা পুরসভায় মেয়রের আসন থেকে শেষবারের মতো সাংবাদিক সম্মেলন করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কোভিড”-এর সময় আমাদের কাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এসেছিল। তখন আমাদের কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পরে কাজ করেন । তারপর কোবিড ভ্যাকসিন যখন আসে তা পরীক্ষার জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমি প্রথম ভ্যাকসিন নিই । তারপর ছিল আমফান। সেটাও সামলে দিই আমরা কলকাতা পুরসভার তরফে। টক-টু-মেয়র করে মানুষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করি। ঠিকা টেন্যান্সি আইন, অনলাইনের মাধ্যমে পুরসভার সব কাজকে নিয়ে আসি । হোয়াটস্যাপ অফ মেয়র করেছি। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচুর গাছ লাগিয়েছি। ৩৬টি পাম্পিং স্টেশন করেছি। গার্ডেররিচের জলের যোগান বাড়িয়েছি । গড়িয়া স্টেশনের কাছে জলের পাম্পিং স্টেশন করে যেতে পারলাম না । যারা আসবেন তারা করে নেবেন। যে কাজটা শেষ করতে পারলাম না সেটা হল নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানানো। বহু আগে নেতাজি যখন মেয়র তখন ঠনঠনিয়াতে কোমর পর্যন্ত জল জমেছিল। নেতাজি মেয়র থাকাকালীন গামবুট পরে সেখানে যান। এখনও ঠনঠনিয়াতে বর্ষায় জল জমে। সি সমস্যা সমাধানের জন্য আমি ঋষিকেশ পার্কে একটি ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন শুরু করে শেষ করতে পারলাম না । এরকম অনেক কাজ আছে। সবটা বলছি না। নিজের কথা বলতে লজ্জা লাগে।”
এর ওপর কেন তিনি মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ? এই প্রশ্ন নিজেই করে উত্তরে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এবার বলি কেন আমি পদত্যাগ করছি ? ফিরহাদ হাকিম কেউ নয়। চেয়ারটার সম্মান আছে । আমিই মেয়র, আমিই পুরমন্ত্রী ছিলাম। এখন আমি ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার হয়ে টিকতে চাই না। তাই আজ পদত্যাগ করছি। আমার পরে যারা আসবেন তারা আমার চাইতে ভালো ভাবে কাজ করবেন। নতুন সরকারের কাছে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা মানুষের জন্য তারা কাজ করবেন । দলের কাছে আমি নেত্রীর কাছে সসম্মানে পদত্যাগের অনুমতি চাই, তিনি সম্মতি দেন। আমি যে কাজটা এই চেয়ার -এ বসে করছিলাম, প্রাতঃস্মরণীয় যাঁরা এই পুরসভায় মেয়র ছিলেন আমার মনে হয়েছে এই চেয়ার-এ আমি বসতে পারবো ভাবিনি। আমি পুরমন্ত্রী ছিলাম, মেয়র ছিলাম। দাপটের সঙ্গে কাজ করতাম, এখন মনে হচ্ছে সেই চেয়ারটার মর্যাদা আমি দিতে পারছি না। তাই আমি পদত্যাগ করলাম।”
মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ৪ মে তৃণমূল বিধানসভা নির্বাচনের পর মেয়র পরিষদ, বরো চেয়ারপার্সনরা পদত্যাগ করছেন, কাউন্সিলররা পুরসভায় আসছেন না, ফলে কাজ করার পরিস্থিতি নেই। তাই এই মেয়র পদে সুভাষ চন্দ্র বসু কলকাতা পুরসভার মেয়র ছিলেন। এই পদের অমর্যাদা হতে দিতে পারি না। তাই মেয়র পদে ইস্তফা দিচ্ছি।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক এক মাস সম্পূর্ণ হতেই কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম।
❤ Support Us





