- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৫, ২০২৬
মণিপুরে ফের রক্তক্ষয়ী হামলা, কাংপোকপির কুকি গ্রামে দম্পতি-সহ নিহত ৩, আগুনে পুড়ল ৭ বাড়ি
মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় ফের হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালে জেলার লোইবোল খুল্লেন নামের একটি কুকি অধ্যুষিত গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র বন্দুকবাজদের হামলায় এক দম্পতি-সহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। হামলার জন্য কুকি সম্প্রদায়ের একাংশ নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতদের নাম লেটখনগাম হাওকিপ (৩৪), তাঁর স্ত্রী তিনমারি হাওকিপ (৩০) এবং জঙ্গমিনলান হাওকিপ (৩৪)। হামলার পর গ্রাম থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, শুক্রবার ভোরে কয়েক জন সশস্ত্র হামলাকারী গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে হামলা চালায়। একই সঙ্গে সাতটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কাংপোকপি জেলায় মূলত কুকি জনজাতির মানুষ বসবাস করলেও বিভিন্ন নাগা উপজাতিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই জেলায় বারবার জাতিগত উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে কুকি সম্প্রদায়ের সংগঠন ‘কুকি ইনপি মণিপুর’। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর এই বর্বর হামলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং কোনও পরিস্থিতিতেই এ ধরনের নৃশংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় নির্দল বিধায়ক হাওখোলেট কিপজেনও এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবিও তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ১৪ জন কুকিকে অপহরণ বা পণবন্দি করার অভিযোগ ওঠে একটি নাগা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পর থেকেই ছয় জন নাগা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যায়।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনও মণিপুরে কুকিদের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে নাগা বিদ্রোহী সংগঠন Zeliangrong United Front। যদিও সংগঠনটির দাবি ছিল, আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া বাড়িগুলি আফিম চাষের কাজে ব্যবহার করা হত এবং শুধুমাত্র সেই বাড়িগুলিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই হামলা মণিপুরে জাতিগত সংঘাতের জটিল পরিস্থিতিকে আরও গভীর করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
❤ Support Us






