Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ৬, ২০২৬

নভেম্বরেই রাজ্যে পুরভোট ? জল্পনা বাড়ালেন দিলীপ ঘোষ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নভেম্বরেই রাজ্যে পুরভোট ? জল্পনা বাড়ালেন দিলীপ ঘোষ

রাজ্যে পালাবদলের পর, একের পর এক কাউন্সিল গ্রেফতার হয়েছেন। কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমমেয়র পারিষদ (এমআইসি) পদ থেকে তারক সিংবিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে কৃষ্ণা চক্রবর্তী ইস্তফা দিয়েছেন। চন্দননগর-সহ বহু শহরে পুরসভার মেম্বার, কাউন্সিলররা দায়িত্ব থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। এই মুহূর্তে কার্যত বেহাল অবস্থায় রয়েছে পৌর-পরিষেবা।

ফলত, রাজ্যের পুর নির্বাচন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কবে হবে পুরভোটতা নিয়ে এখনো পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে নানা হিসাবনিকাশ। এ আবহেই শনিবার  ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্যআগামী নভেম্বর মাসেই রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় নির্বাচন হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলে শাসক দলের প্রাক্তন নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্নীতি-সংক্রান্ত তদন্তে একের পর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে আসছে। গ্রেফতারিও হয়েছে বেশ কয়েক জনের। সে প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এটা তো সবে শুরু। সামনে আরও অনেক কিছু বাকি রয়েছে।’ তাঁর দাবিরাজ্যে এমন বহু ব্যক্তি রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধদুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ জমে রয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছেতাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। তা না হলে জনরোষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টবর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তিনি বৃহত্তর শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখতে চাইছেন।

তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে তাঁর মন্তব্য। সম্প্রতি মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ফিরহাদের একাধিক বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিন, কটাক্ষের সুরে দিলীপ বলেন, ‘এত দিন তিনি কী করছিলেনপ্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন না এখন হঠাৎ সব কিছু থেকে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করছেন কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ গত পনেরো বছরে কী হয়েছেতা খুব ভাল করেই জানে। কে কী বলেছেনকী করেছেনসবই মানুষের মনে রয়েছে। এখন নাটক করে সেই স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে না।

দিলীপের অভিযোগদীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার ফলে শাসক দলের একাংশের মধ্যে এক ধরনের আত্মতুষ্টি তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের সমস্যাক্ষোভপ্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল আমলে  মানুষকে চরম অবজ্ঞা করা হয়েছে। মনে করা হয়েছিলক্ষমতা চিরস্থায়ী। কিন্তু গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষই।’  রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতেপুরভোট নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। কারণক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নও সামনে এসেছে। বহু পুরসভার মেয়াদপ্রশাসনিক বোর্ড এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে নভেম্বরে ভোট হওয়ার সম্ভাবনার কথা সামনে আসতেই রাজনৈতিক  দলগুলি নিজেদের সংগঠনকে সক্রিয় করার প্রস্তুতি শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

এদিন, কেন্দ্র সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবিগত কয়েক বছরে কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের গতি বেড়েছে। জঙ্গলমহলসীমান্তবর্তী জেলা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে পরিকাঠামো উন্নয়নযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও দাবি তাঁর। রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে আশাবাদী সুরে মন্ত্রী বলেনপশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা অপরিসীম। সঠিক প্রশাসন এবং স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থায় আগামী দিনে দেশের অগ্রগতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বাংলা।

যদিও পুরভোটের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের কোনো সরকারি ভিত্তি এখনো সামনে আসেনি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফেও এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা করা হয়নি। তবু তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছেসে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!