Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ৬, ২০২৬

রাজ্যের সব মাদ্রাসায় নিবিড় সমীক্ষা, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে জেলাশাসকদের রিপোর্ট জমা দেবার নির্দেশ নবান্নের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যের সব মাদ্রাসায় নিবিড় সমীক্ষা, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে জেলাশাসকদের রিপোর্ট জমা দেবার নির্দেশ নবান্নের

রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান কাঠামো, প্রশাসনিক অবস্থান, পরিকাঠামোগত বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে বৃহৎ পরিসরের সমীক্ষার নির্দেশ দিল নবান্ন । জেলাশাসকদের পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা এলাকার অধীন থাকা সমস্ত মাদ্রাসার বিস্তারিত তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করে জেলা-ভিত্তিক রিপোর্ট আকারে রাজ্য প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে ।
শুক্রবার রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় । ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি মাদ্রাসার অবস্থান, প্রতিষ্ঠার সাল, নথিভুক্তির অবস্থা, কোথায় ও কীভাবে নথিভুক্ত হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা-সহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে হবে ।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্বীকৃত, অস্বীকৃত, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত, অনুদানবিহীন এবং সম্পূর্ণ বেসরকারি; সব ধরনের মাদ্রাসা এই সমীক্ষার আওতায় থাকবে । কোনো প্রতিষ্ঠানকেই এর বাইরে রাখা যাবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে । আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে এই সমীক্ষা সম্পূর্ণ করে জেলাভিত্তিক সমন্বিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে নবান্নে । নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সময়সীমা কঠোরভাবে নির্ধারণ করায় প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে । সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই বিস্তারিত নির্দেশিকা সব জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে । সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা স্তরে গিয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে । মাদ্রাসাগুলির অবস্থান, রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস, পরিচালনার ধরন, আইনি ভিত্তি এবং প্রশাসনিক কাঠামো ইত্যাদি সবকিছুই নথিভুক্ত করতে হবে ।
তথ্য সংগ্রহের তালিকায় আরও রয়েছে মাদ্রাসার পরিকাঠামোগত অবস্থা । যেমন, মাদ্রাসা ভবনের গুণমান, শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচাগার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা । পাশাপাশি কতজন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা, এবং পাঠক্রমের ধরন সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে । নবান্ন-এর দাবি এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য একটি একীভূত, হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা । যে তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে মাদ্রাসা শিক্ষার নীতি নির্ধারণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম, প্রশাসনিক ঘাটতি কিংবা কাঠামোগত অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তাও এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলেও মনে করা হচ্ছে । ফলে ভবিষ্যতে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ।
একই সঙ্গে নবান্ন-এর তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই সমীক্ষা সম্পূর্ণভাবে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে । এর ফলে কোনো মাদ্রাসার স্বাভাবিক পঠনপাঠন বা শিক্ষাবর্ষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হবে না । প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা, শিক্ষার্থীদের উপর কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া বা পঠনপাঠনে হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনা নেই বলেও পরিষ্কার করা হয়েছে ।
কয়েক দিন আগেই রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় প্রতিদিনের প্রার্থনা বা অ্যাসেম্বলির সময় বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে । গত ১৯ মে মাদ্রাসা শিক্ষার ডিরেক্টরেটের জারি করা ওই নির্দেশে বলা হয়, বিদ্যালয়ের সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া সকলের জন্য বাধ্যতামূলক ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!