Advertisement
  • দে । শ মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • জুন ১২, ২০২৬

ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে ইন্দ্রপতন, প্রয়াত কিংবদন্তী শুটার, দ্রোনাচার্য কোচ জসপাল রানা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে ইন্দ্রপতন, প্রয়াত কিংবদন্তী শুটার, দ্রোনাচার্য কোচ জসপাল রানা

ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে ইন্দ্রপতন। মারা গেলেন প্রখ্যাত ভারতীয় শুটিং কোচ এবং এশিয়ান গেমস স্বর্ণপদক জয়ী জসপাল রানা। এই কিংবদন্তী শুটারের বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৯ বছর। মিউনিখে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মারা যান। জসপাল রানার মৃত্যু ভারতীয় শুটিংয়ের জন্য এক বিরাট আঘাত।

ভারতের অন্যতম সেরা পিস্তল শুটার ছিলেন জসপাল রানা। ১৯৯০ দশকে দারুণ খ্যাতি লাভ করেন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একের পর এক পদক জিতে দেশের অন্যতম সফল শুটার হয়ে ওঠেন। বেশ কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার একটানা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। দেশে শুটিংকে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জসপাল রানা। শুটিং রেঞ্জে তাঁর কৃতিত্ব জসপালকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয় এবং তরুণ শুটারদের এক প্রজন্মকে এই খেলায় আসতে অনুপ্রাণিত করে।

প্রতিযোগিতামূলক কেরিয়ারের ইতি টানার পর কোচিংয়ে আসেন জসপাল রানা। এবং শীঘ্রই ভারতীয় শুটিংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনি ২০১২ সালে জাতীয়স্তরের কোচিংয়ে আসেন এবং জুনিয়র পিস্তল প্রোগ্রামের দায়িত্ব নেন। পরবর্তীকালে তিনি এমন কয়েকজন শুটারকে নিয়ে কাজ করেন, যারা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ছাপ রেখেছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে সৌরভ চৌধুরী, অনীশ ভানওয়ালা এবং চিঙ্কি যাদবরা নিজেদের মেলে ধরেন। জুনিয়র প্রোগ্রামে তাঁর অবদান ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছিল, কারণ ভারত বছরের পর বছর ধরে বিশ্বমানের পিস্তল শুটার তৈরি করে চলেছিল।
জসপালের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং চাপের পরিস্থিতিতে শুটারদের প্রস্তুত করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন।

তাঁর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রতিযোগিতার পরিবেশ অনুকরণের ওপর ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত ছিল, যা ক্রীড়াবিদদের বড় বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টের চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করত। তাঁর কোচিং কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল মনু ভাকেরের সঙ্গে সম্পর্ক। ভাকেরের ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর প্রস্তুতি ও বিকাশে জসপাল অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। মনু ভাকের ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এবং মিশ্র দলগত ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

খেলাধুলায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, এনআরএআই ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জসপাল রানাকে ২৫ মিটার পিস্তল ডিসিপ্লিনের হাই-পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে নিযুক্ত করে। তিনি জাতীয় শুটিং কর্মসূচির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং আমৃত্যু ভারতের শীর্ষস্থানীয় পিস্তল শুটারদের সঙ্গে কাজ করে গেছেন। কোচিং ও ক্রীড়াবিদ উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রানাকে ২০২০ সালে ভারতীয় ক্রীড়াজগতের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান দ্রোণাচার্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষক হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন জসপাল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!