Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • জুন ১৫, ২০২৬

আর্থিক সাহায্য না পেলে বাংলা ছাড়তে চান স্বর্ণজয়ী তহুরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আর্থিক সাহায্য না পেলে বাংলা ছাড়তে চান স্বর্ণজয়ী তহুরা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক পরিবারের কন্যা তহুরা খাতুন। কিছুদিন আগেই হংকংয়ে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ২০ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের ৪x‌৪০০ মিটার রিলেতে সোনা জিতেছেন। সোনা জিতেও হতাশা বাংলার এই সম্ভাবনাময়ী অ্যাথলিটের। জুনিয়র পর্যায় থেকে একটানা পদক জিতেও বাংলা থেকে কোনও সাহায্য পাননি। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে বাংলা ছাড়তে দ্বিধা করবেন না তহুরা।

জাতীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক বিভাগে সেই ২০২১ সাল থেকে বাংলা পদক এনে দিয়েছেন তহুরা খাতুন। অথচ রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে রাজ্য অ্যাথলেটিক্স সংস্থা, কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। অভিমান ঝড়ে পড়ছিল ২০ বছর বয়সী বাংলার এই সম্ভাবনাময়ী অ্যাথলিটের। বলছিলেন, ‘‌বাংলা পদক এনে দিয়ে কী পেয়েছে অ্যাথলিটরা?‌ ২০২১ থেকে আমিও বাংলাকে পদক দিয়ে যাচ্ছি। আজ পর্যন্ত কী পেয়েছি?‌ সরকার, রাজ্য সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। কী জন্য বাংলায় পড়ে থাকব? এখানে চাকরিও নেই, কোনও আর্থিক সাহায্য করে না সরকার। সেই জন্যই তো অনেকেই বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। সুযোগ পেলে আমিও যাব।’‌

সম্প্রতি হংকংয়ে অনুষ্ঠিত মহিলাদের অনূর্ধ্ব২০ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ৪x‌৪০০ মিটার রিলেতে সোনা জিতেছেন তহুরা। তবে ব্যক্তিগত বিভাগে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হওয়ার হতাশা রয়েছে। ৫৩.‌৫৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে মহিলাদের ৪০০ মিটারে চতুর্থ স্থান পেয়েছিলেন তহুরা। যিনি ব্রোঞ্জ জিতেছেন, তিনি সময় নিয়েছেন ৫৩.‌২০ সেকেন্ড। তহুরা বলছিলেন, ‘‌প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ট্র‌্যাকে নামতে হয়েছিল। ভিসা সমস্যার কারণে ইভেন্ট শুরুর ১ ঘন্টা আগে মাঠে পৌঁছেছিলাম। আগে পৌঁছলে হয়তো একটা পদক আসত।’‌

ভাঙড়ের ফুলবাড়ির এই অ্যাথলিটের উঠে আসাটা একটু অন্যরকম। ছোটবেলায় ছেলেদের সঙ্গে গ্রামে ফুটবল, ক্রিকেট খেলতেন। বেশি দৌড়ঝাঁপ করতেন বলে তহুরার বাবা তাঁকে ভাঙড় স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই অ্যাথলেটিক্সে যাত্রা শুরু। এরপর ২০২১ সালে বাংলার হয়ে জুনিয়র ন্যাশনালে ৪০০ মিটারে সোনা জয়। ওই বছরই ট্রায়াল দিয়ে সাইতে সুযোগ। কলকাতা সাইতে ভর্তি হন তহুরা এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০২১ থেকে ২০২৬, প্রতি বছরই বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাকে পদক এনে দিয়েছেন।

এবছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথম পদক জয়ের পর তহুরা খাতুনের লক্ষ্য  জুলাইতে অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। তারপর আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনূর্ধ্ব ২৩ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ। এবার এই দুটি প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় মহিলা রিলে দলে নির্বাচিত হয়েছেন। কঠিন হলেও তহুরার লক্ষ্য দুটি প্রতিযোগিতা থেকেই পদক জেতা।

এশিয়ান অনূর্ধ্ব ২০ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জেতার পর রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডেকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। তুলে দিয়েছেন একজোড়া জুতো ও একটা আপার। খুব একটা সন্তুষ্ট নন তহুরা। বলছিলেন, ‘‌এতে কী সারা বছর চলবে?‌ আর্থিকভাবে কোনও সাহায্য করেননি। তবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চিঠি দিতে বলেছেন। দু–একদিনের মধ্যে চিঠি দেব। আমাদেরও তো টাকার দরকার। খাওয়া–দাওয়া থেকে শুরু করে, সরঞ্জাম কেনা, প্রচুর টাকা লাগে। অ্যাথলিটরা সাধারনত গরীব ঘর থেকে উঠে আসে। আমরা অত টাকা কীভাবে জোগাড় করব। এই কারণেই তো বাংলার অ্যাথলিটরা রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!