- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুন ১৭, ২০২৬
ট্রাম্পের সামনেই হরমুজে নাবিক-মৃত্যুতে ক্ষোভ নরেন্দ্র মোদির, জি–৭ মঞ্চে সমুদ্রপথের নিরাপত্তার দাবি
মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন সামরিক হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুর সমালোচনা করলেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং সমুদ্র পথের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন। মোদি যখন শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পাশেই বসেছিলেন। ট্রাম্পের কাছে সাম্প্রতিক ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রচেষ্টার অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ সংঘাত এই অঞ্চলের আমাদের মিত্র দেশগুলিতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি খারাপভাবে প্রভাবিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে অনেক ভারতীয় নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ব বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশকে সংযুক্তকারী নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন সমুদ্রপথ নিরাপদ থাকে এবং নাবিকরা নির্ভয়ে তাদের কাজ করতে পারে।’
ওমান উপসাগরের সাম্প্রতিক ঘটনার পর নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই প্রথম এ নিয়ে বক্তব্য রাখলেন। সম্প্রতি, মার্কিন সামরিক বাহিনী পালাউ–পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘সেত্তেবেলো’র ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। জাহাজটিতে ২৪ জন ভারতীয়, ২ জন পাকিস্তানি, ১ জন ইউক্রেনীয় এবং ১ জন রুশসহ মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। ইরান থেকে তেল বহন করার সময় মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন বাহিনী ট্যাঙ্কারটিকে আটক করে এবং আক্রমণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল যে, ট্যাঙ্কারটি ইরান থেকে তেল বহন করছিল এবং মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে এটাকে আটক ও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সামুদ্রিক ঘটনায় জড়িয়ে পড়া ভারতীয় নাবিকবাহী তৃতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ হল ‘সেত্তেবেলো’। হরমুজ প্রণালী একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ, যা দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্যের একটা বড়ো অংশ চলাচল করে এবং পারস্য উপসাগরকে আন্তর্জাতিক জলসীমার সঙ্গে সংযুক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি–৭ নেতাদের সামনে হরমুজে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তা একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের অংশ হওয়া উচিত। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে ভারতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতের তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এ পথেই হয়ে থাকে।
জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা বলেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ১৬ মাস পর দুই নেতার মধ্যে এটাই ছিল প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ট্রাম্পকে উষ্ণভাবে করমর্দন করতে দেখা যায়, তাঁরা সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতাও করেন। শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার একটা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফরের পর এট্আই ছিল মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রথম বৈঠক। বুধবারের বৈঠকে দুই নেতা সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য চলমান আলোচনা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য গৃহীত পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক সংহতি ও নতুন অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভাষণে তিনি বলেন যে, ‘আজকের এই আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে শক্তি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, সাইবার এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত, যা মানবজাতির অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে অপরিহার্য করে তুলেছে।’ তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সংকীর্ণ স্বার্থে বাণিজ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার হচ্ছে, যা দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। কোভিড-১৯ মহামারি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশগুলোকে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বে আস্থা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত সর্বদা ‘মানবতাই প্রথম’ এই নীতি অনুসরণ করে এসেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এ দর্শনই ‘আন্তর্জাতিক সৌর জোট’, ‘দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো জোট’, ‘গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স’, ‘মিশন লাইফ’ এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’-এর মতো উদ্যোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ভারত অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সাহায্য করার জন্য ভারত সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছে বলে দাবি করেন মোদি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার ঘূর্ণিঝড়, আফগানিস্তানের ভূমিকম্প, মোজাম্বিকের বন্যা কিংবা জ্যামাইকার হারিকেনের সময় ভারত যথাসম্ভব সহায়তা প্রদান করেছিল।
❤ Support Us







