Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ১৭, ২০২৬

বিতর্কের মুখে পিছু হটল এনসিইআরটি! পাঠ্যবইয়ে ফিরছে সিন্ধু সভ্যতার ‘নৃত্যরত বালিকা’র আসল ছবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিতর্কের মুখে পিছু হটল এনসিইআরটি! পাঠ্যবইয়ে ফিরছে সিন্ধু সভ্যতার ‘নৃত্যরত বালিকা’র আসল ছবি

সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘নৃত্যরত বালিকা’ বা ‘ডান্সিং গার্ল’ মূর্তির ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ (এনসিইআরটি)। নবম শ্রেণির নতুন পাঠ্যবইয়ে মূর্তিটির পরিবর্তিত ও আংশিক আবৃত ছবি প্রকাশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে এবার মূল ও অপরিবর্তিত ছবিই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের মধ্যেই বইটির সফট কপিতে সংশোধন করা হবে এবং ডিজিটাল সংস্করণে শুধুমাত্র ‘নৃত্যরত বালিকা’র আসল রূপই দেখা যাবে। একই সঙ্গে সীমিত সংখ্যায় ছাপা হওয়া হার্ডকপিগুলিতেও ছবিটি প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বইটি এখনো বাজারে বিক্রির জন্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিতর্কের সূত্রপাত ‘এনসিইআরটি’-র নবম শ্রেণির নতুন চারুকলা শিক্ষার পাঠ্যবই ‘মধুরিমা’-র ‘শিল্পকলার ইতিহাস’ শীর্ষক প্রথম অধ্যায়ে প্রকাশিত একটি ছবিকে ঘিরে। সেখানে মহেঞ্জোদারো থেকে আবিষ্কৃত বিখ্যাত ব্রোঞ্জের ‘নৃত্যরত বালিকা’ মূর্তির ধড়ের অংশ ছায়াচ্ছন্ন বা আবৃত করে দেখানো হয়েছিল। ফলে মূর্তিটির কাঁধের নিচের অংশ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল না। অনেকের মতে, ছবিটি দেখে মনে হচ্ছিল যেন মূর্তিটি পোশাক পরিহিত।

এ পরিবর্তন নিয়ে ইতিহাসবিদ, শিল্প-গবেষক ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের একাংশ তীব্র আপত্তি জানান। তাঁদের মতে, কোনও ঐতিহাসিক নিদর্শনের ছবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে পরিবর্তন করা হলে তা ইতিহাসের সত্যতাকে বিকৃত করার শামিল। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অসম্পূর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত নিদর্শনের সম্ভাব্য পুনর্গঠন দেখানোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু মূল শিল্পকর্মের চেহারা পরিবর্তন করে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, ‘নৃত্যরত বালিকা’ মূর্তিটি প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়। এটি সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার সময়কার, যার আনুমানিক সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ অব্দ। মহেঞ্জোদারোতে খননকার্যের সময় আবিষ্কৃত এই ক্ষুদ্র ব্রোঞ্জের মূর্তিটি মাত্র প্রায় চার ইঞ্চি লম্বা হলেও বিশ্বজুড়ে সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত। পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূর্তিটি ‘লস্ট-ওয়াক্স’ বা মোমের ছাঁচ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রাচীন ধাতুশিল্প কৌশল আজও পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে।

বর্তমানে নয়াদিল্লির জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ‘নৃত্যরত বালিকা’ মূর্তিটি সিন্ধু সভ্যতার উন্নত ধাতু-ভাস্কর্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। বিতর্কের পর এনসিইআরটি মূল ছবিটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ইতিহাস ও সংস্কৃতি মহলে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!