Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ১৭, ২০২৬

বিদ্রোহের ঝড়ে প্রবীণদের উপর ভরসা মমতার, তৃণমূলে সাংগঠনিক রদবদল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিদ্রোহের ঝড়ে প্রবীণদের উপর ভরসা মমতার, তৃণমূলে সাংগঠনিক রদবদল

দলীয় বিদ্রোহ, ভাঙন এবং সাংগঠনিক সংকটের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়োসড়ো রদবদল করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তুলতে জেলা ও সাংগঠনিক স্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরতে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতৃত্বের উপরই আস্থা রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

দলের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূলের হাতে থাকলেও মাত্র ৮০টি আসন, যার বড় অংশের বিধায়করাই বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে তথাকথিত ‘ভালো তৃণমূল’-এর পতাকাতলে ইতিমধ্যেই ৬৫ জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনেও দলের ফল আশানুরূপ না হওয়ায় অন্দরে অসন্তোষ আরও প্রকট হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে নতুন সাংগঠনিক কমিটিতে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বের পাশে থেকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পুরস্কার হিসেবেই এই দায়িত্বপ্রাপ্তি দেখছেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদে আনা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। এতদিন এই দায়িত্বে ছিলেন দেবাশিস কুমার।

শ্রীরামপুর-হুগলি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদারকে। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে তাঁর পরিবর্তে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয়েছিল, যার ফলে অসিত মজুমদার প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। তবে নির্বাচনী পরাজয়ের পর দেবাংশুর সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়তে থাকায় এবার আবারও অসিত মজুমদারের উপর আস্থা রাখল দল। ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো পার্থ ভৌমিকের পরিবর্তে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন অমিত গুপ্ত।

হাওড়া সদর জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক অরূপ রায়কে, যিনি বর্তমানে ঋতব্রতদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁর জায়গায় নতুন সভাপতি করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়া পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের দায়িত্ব পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি হয়েছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে গৌতম দেবকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভিতরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও বিদ্রোহ মোকাবিলায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে সামনে এনে সংগঠনকে পুনর্গঠনের কৌশল নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে হতাশ কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা, ভাঙন রোধ করা এবং সংগঠনকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করা। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর আরেকটি বিতর্কও সামনে এসেছে। যে ঠিকানা থেকে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেই কার্যালয়ের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের খবর, ওই বাড়ির মালিক মন্টু সাহা ইতিমধ্যেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, ফলে দলীয় কার্যালয় নিয়েও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!