- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১, ২০২৬
কমল ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, অপরিবর্তিত গৃহস্থালির গ্যাসের মূল্য
বাংলার হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাইস হোটেল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য মাসের শুরুতেই স্বস্তির খবর। ১ জুলাই, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একধাক্কায় ১৭৪ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে আগে যেখানে একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ছিল ৩,২৫৫ টাকা, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩,০৮১ টাকা ৫০ পয়সা। তবে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। কলকাতায় এ ধরনের সিলিন্ডারের বর্তমান মূল্য ৯৬৮ টাকাই বহাল রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজির দামের ওঠানামার ভিত্তিতেই প্রতি মাসের শুরুতে তেল বিপণন সংস্থাগুলি রান্নার গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে তেল ও এলপিজি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছিল। এর জেরে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। চলতি বছরের শুরু থেকেই একাধিকবার বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ দাম বাড়ে ১১১ টাকা। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। মার্চ মাসের শুরুতে বাড়ানো হয় ৩১ টাকা। এপ্রিলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে একধাক্কায় ২১৮ টাকা বাড়ানো হয়।
মে মাসেও উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি হয় এবং জুন মাসে আরও ৫৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাইস হোটেল ও ছোট খাবারের ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। বর্ধিত গ্যাসের খরচ সামাল দিতে বহু ছোট রেস্তোরাঁ ও পাইস হোটেল ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। অনেকেই খাবারের দাম বাড়িয়ে দেন, আবার কেউ কেউ গ্যাসের ব্যবহার কমানোর জন্য মেনুতেও পরিবর্তন আনেন। কম সময়ে ও কম গ্যাসে রান্না করা যায়— এমন খাবারের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে ১ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে ১৭৪ টাকা ছাড় হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, এতে পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমবে এবং ছোট ব্যবসাগুলিও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর রেস্তোরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এলপিজি সরবরাহকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় যে সীমাবদ্ধতাগুলি আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলিও ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহস্থালির ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কবে পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য, এলপিজির আমদানি ব্যয় এবং কেন্দ্রের মূল্য নির্ধারণ নীতির উপর। আপাতত গৃহস্থালির গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
❤ Support Us








