- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ৬, ২০২৬
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র হামলা, নিহত ৮, আহত ৩৪
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির পর উপসাগরীয় অঞ্চল শান্তিপূর্ণ থাকলেও, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। কদিন আগেই কিয়েভে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল রুশ বাহিনী। এবার ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক একদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া। এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৮ জন নিহত, ৩৪ জন আহত হয়েছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে একটা যৌথ রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই হামলার ঘটল।
রবিবার রাতে রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরেকটি বড় আকারের হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই হামলাগুলো চালানো হয়। ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোনগুলি আছড়ে পড়ে আবাসিক এলাকায়। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান একটু বেশিই। হামলার পর কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেছেন, উদ্ধারকারী দলগুলো রাতভর বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে। কর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভে ৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমের বুচা জেলার বাসিন্দা। এছাড়া কিয়েভের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে ১ জন নিহত ও অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং অন্যান্য আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়ে। জলপথের ধারে একটা শিল্প কারখানাতেও আগুন লেগে গেছে। সেখানে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। হামলার পর লোকজন মেট্রোতে আশ্রয় নেয়। এই হামলায় পোডিলস্কি এলাকার একটা আবাসিক ভবন আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। দারনিতসিয়া এলাকায় বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়েভের মেয়র ক্লিচকো বলেছেন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং তিনি জনগণকে নিজ নিজ স্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছিল, যা সোমবার সকাল পর্যন্ত চলেছিল। বিস্ফোরণের শব্দে শহরজুড়ে কম্পন অনুভূত হয় এবং সাধারণ মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেয়।
আগামীকাল, মঙ্গলবার, তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে একটি পোস্টে পশ্চিমা মিত্রদের ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার, বিশেষ করে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এগুলোর অভাব রাশিয়াকে তার চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে উৎসাহিত করবে।
❤ Support Us







