Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৯, ২০২৬

সরকারি কর্মীদের প্রোমোশন নিয়ে নবান্নের বড়ো সিদ্ধান্ত, কম্পিউটার পরীক্ষা পাশ না করলে বন্ধ থাকবে ‘ইনক্রিমেন্ট’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সরকারি কর্মীদের প্রোমোশন নিয়ে নবান্নের বড়ো সিদ্ধান্ত, কম্পিউটার পরীক্ষা পাশ না করলে বন্ধ থাকবে ‘ইনক্রিমেন্ট’

রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রোমোশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০১৯ সালের পর ভুলবশত কম্পিউটার অপারেশন ও কম্পিউটার টাইপিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েই যেসব গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী এলডিসি/এলডিএ  বা ইউডিসি/ইউডিএ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাঁদের প্রোমোশন আপাতত বাতিল করা হবে না।
তবে ওই কর্মীদের সকলকেই নেতাজি সুভাষ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট -এর নির্ধারিত কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সে পরীক্ষা পাশ না করা পর্যন্ত তাঁদের বার্ষিক ‘ইনক্রিমেন্ট’ বন্ধ থাকবে। যদিও তাঁদের বর্তমান পদ, বেতন বা বেতনক্রমে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। আগের পদেও ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (ক্লারিক্যাল ক্যাডারে নিয়োগ) বিধি কার্যকর হওয়ার পর পূর্বের সমস্ত নিয়ম বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী গ্রুপ-ডি এবং গ্রুপ-সি কর্মীদের জন্য কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় যে ছাড়ের ব্যবস্থা ছিল, সেটিও আর কার্যকর নেই। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও একাধিক ক্ষেত্রে পুরনো নিয়ম অনুসরণ করে ৫০ ঊর্ধ্ব কর্মীদের কম্পিউটার পরীক্ষা ছাড়াই পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে রাজ্য সরকার এই নতুন নির্দেশিকা জারি করে।

সরকার স্পষ্ট করেছে, অতীতে হওয়া এ ধরনের পদোন্নতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বহাল রাখা হলেও, ভবিষ্যতে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে কম্পিউটার পরীক্ষা ছাড়া কোনো কর্মীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়, তাহলে সেই পদোন্নতি সরাসরি বাতিল করা হবে। অর্থাৎ, আগামী দিনে ২০১৯ সালের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। তবে, নয়া নির্দেশিকার মধ্যেই কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নবান্ন জানিয়েছে, নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার আগে যাঁরা সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি নিয়ে অবসর নিয়েছেন, তাঁদের পুরনো নথিপত্র আর খতিয়ে দেখা হবে না। অর্থাৎ, অতীতের সে সমস্ত মামলায় নতুন করে ফাইল খুলে কোনো পদক্ষেপ করা হবে না। একই সঙ্গে অবসরের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রেও কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। কোনো কর্মীর সামনে যদি আর বিভাগীয় পরীক্ষায় বসার বাস্তব সুযোগ না থাকে, তা হলে তাঁর পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার স্বার্থে পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অর্থ দপ্তরে পাঠানো যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে একযোগে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত মত জানাবে অর্থ দপ্তর।

আবার বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে বা তিনি চাকরি ছেড়ে দিলে তাঁর পরিবারের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ‘গ্র্যাচুইটি’ এবং অর্জিত ছুটির নগদায়নের হিসাব নির্ধারণের সময় আটকে থাকা ইনক্রিমেন্টগুলি ‘নোশনাল’ বা কাল্পনিকতার ভিত্তিতে পুনর্বহাল করা হতে পারে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শিথিলতার অবসান ঘটিয়ে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মকানুন কঠোরভাবে কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের কাছেও স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চায় রাজ্য প্রশাসন— পদোন্নতির সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতেই হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!