- বি। দে । শ
- জুলাই ১৪, ২০২৬
হরমুজে আমিরশাহির দুটি ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা । নিহত ১ ভারতীয় নাবিক, আহত ৮
সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুটি তেল ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও ৮ জন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওয়াশিংটনও দক্ষিণ ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাদের দুটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে যে, ওমানের জলসীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি টাঙ্কারের ওপর ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় ‘মোম্বাসা’ ট্যাঙ্কারের একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং ৬ জন ভারতীয় ও ২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকসহ আরও ৮ জন আহত হয়েছেন। আগুনে উভয় জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরমুজ প্রণালীতে ওমানের জলসীমার মধ্যে ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ তেল ট্যাঙ্কারের ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিকের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, এই হামলাটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অবিলম্বে সমস্ত বৈরী কার্যকলাপ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
দুটি জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। এর জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১৪০টি স্থানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। সোমবার রাতেই দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বন্দর আব্বাস শহর ও কিশ দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গোছে। পরে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, বুশেহর প্রদেশের জাম শহর ও কেশম দ্বীপেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর হামলা চালাল। এই হামলায় ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হল হরমুজ প্রণালীতে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস করা।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন যে, ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালানো হবে, যা থেকে বোঝা যায় যে ওয়াশিংটন আগামী দিনগুলোতে তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
❤ Support Us








