- দে । শ
- জুলাই ১৫, ২০২৬
সংবিধান সংশোধনী বিল পাসে সংখ্যার অঙ্কে নতুন কৌশল, ডিএমকে-এনসিপি (শরদ)-র সঙ্গে ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসি’-তে সক্রিয় বিজেপি
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ২০ জুলাই। তার আগেই সংবিধান সংশোধনী বিল—বিশেষ করে আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল—পাস করাতে সংখ্যার অঙ্ক মেলাতে বিকল্প কৌশল গ্রহণ করেছে বিজেপি তথা এনডিএ শিবির। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের পাশাপাশি বিরোধী দলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলের সঙ্গে ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসি’ বা অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যোগাযোগও জোরদার করা হয়েছে বলে সংসদীয় সূত্রের দাবি।
সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন এবং শিবসেনার (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) ছয় জন—মোট ২৬ জন লোকসভা সাংসদ নিজেদের দল ছেড়ে এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার পর লোকসভায় শাসক জোটের সমর্থন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৯ জনে। তবে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করতে প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, যার জন্য সরকারের প্রয়োজন ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই বিকল্প পথ খুঁজছে কেন্দ্র।
এই প্রেক্ষাপটে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের দল ডিএমকে এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (শরদ)-র সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছেন বিজেপির একাধিক হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সূত্রের দাবি, আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে যদি কেন্দ্র সরকার ডিএমকে এবং এনসিপি (শরদ)-র কিছু দাবি মেনে নেয়, তা হলে ওই দুই দলের সাংসদরা সংবিধান সংশোধনী বিলের উপর ভোটাভুটির সময় লোকসভায় অনুপস্থিত থাকতে পারেন।
ডিএমকে-র ২২ জন এবং এনসিপি (শরদ)-র আট জন সাংসদ যদি ভোটাভুটিতে অংশ না নেন, তবে কার্যকর সদস্যসংখ্যা কমে যাবে। ফলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনের সংখ্যাও নেমে আসবে। সেই পরিস্থিতিতে বিল পাস করানো এনডিএ-র পক্ষে অনেকটাই সহজ হবে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
রাজ্যসভার ক্ষেত্রে এনডিএ-র অবস্থান তুলনামূলকভাবে আরও শক্তিশালী। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন পদত্যাগী সাংসদ—সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক—বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হলে বিজেপির আসনসংখ্যা ১১৪ থেকে বেড়ে ১১৭ হবে। সেক্ষেত্রে রাজ্যসভায় এনডিএ-র মোট সাংসদ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫৫।
২৪৫ সদস্যের রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে প্রয়োজন ১৬৪ জন সাংসদের সমর্থন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য এনডিএ-র প্রয়োজন হবে আরও মাত্র ন’জন সাংসদের সমর্থন। সেই কারণেই লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও অতিরিক্ত সমর্থন নিশ্চিত করতে অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যোগাযোগ বা ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসি’-র কৌশল গ্রহণ করেছে শাসক শিবির। সংসদীয় সূত্রের দাবি, বাদল অধিবেশন শুরুর আগে এই সমীকরণকে চূড়ান্ত রূপ দিতেই বিভিন্ন বিরোধী দলের সঙ্গে নেপথ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব।
❤ Support Us





